বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা সিদ্ধান্ত আজ

199

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক: এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন বিএনপি কি আদৌ নির্বাচনে অংশ নেবে নাকি আন্দোলনের পথে হাঁটবে। তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন ফরম বিক্রিসহ নানা নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করলেও সেখানে বিএনপি এখনও নিশ্চুপ। এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনমুখী হতে চাইলেও অপেক্ষায় নীতি নির্ধারকদের সবুজ সংকেতের। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অনেকটাই নিষ্প্রভ। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে মাঠ দাপিয়ে বেড়ানোর কথা থাকলেও কাটছে না শঙ্কা। বেশ কয়েকটি দাবি অমিমাংসিত থাকলেও তফসিল ঘোষণায় শীর্ষ নেতারাও পড়েছেন জটিল সমীকরণে। তারাও অপেক্ষায় আছেন জোটগত সিদ্ধান্তের। নির্বাচনের আগ্রহ থাকলেও অপেক্ষায় দলীয় সিদ্ধান্তের।

এদিকে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে শনিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পুনরায় ২০ দলীয় জোট ও স্থায়ী কমিটি বৈঠকে বসছে। বৈঠকে নির্বাচন, মনোনয়ন ও আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া একই ইস্যুতে রাতে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় বৈঠকে বসছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

জানা গেছে, দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দল ও ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গত দুইদিনে দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদষ্টা এবং বিশ দলীয় জোটের শরিকদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে শনিবার ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে।

জানা গেছে, দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশিরাও বিএনপিকে এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জোর পরামর্শ দিচ্ছেন। বিগত দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের মতো আর ভুল না করার অনুরোধ করছেন তারা। একই সঙ্গে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারাও নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি এবং ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও বেশিরভাগ নেতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে মত দিয়েছেন।

তবে দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে সংলাপ ফলপ্রসূ না হলেও দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনের অংশ হিসেবেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যেতে পারে বিএনপি। আজ বা কাল দল ও জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

সূত্র আরও জানায়, বিএনপি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মতামত নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার (১১ নভেম্বর) দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে পারেন। পাশাপাশি দলটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও আরেক দফা কথা বলবেন। সব আলোচনা শেষে দু-এক দিনের মধ্যেই নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া সংক্রান্ত ঘোষণা দেবে বিএনপি।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে অংশ নিতে হলে জোটগতভাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন আছে। কেননা, জোটগতভাবে প্রার্থী দিতে হলে তিন দিনের মধ্যে তা জানাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তাই আজকের উভয় জোটের বৈঠকে এ বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।

অপরদিকে, ঘোষিত তফসিলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে কী কী প্রতিবন্ধকতা আছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ বিএনপির থিংক ট্যাংক বা বিশেষজ্ঞ মহলে চলছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট সূত্র।

দলীয় সরকারের অধীনে ভোটে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে হরতাল অবরোধ নিয়ে রাজপথে ছিল বিএনপি জোট। সেই নির্বাচন বর্জনও করে তারা। একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে একই দাবিতে বহুদিন অনঢ় থাকলেও গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি যায় পাল্টে। বিশেষ করে তৃনমূল থেকে নেতাদের ওপর ভোট যাবার চাপ ছিল প্রচণ্ড।

তবে, বেগম জিয়া কিংবা তারেক রহমানকে ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া আত্মঘাতীমূলক সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করেন অনেকেই। খালেদা জিয়া ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার পক্ষে মত দিলেও শেষ পর্যন্ত তা সিদ্ধান্ত আকারে গ্রহণ করা হয়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে আমরা ২০ দল আলোচনায় বসবো। আরেকটি জোট হয়েছে সেখানেও আমাদের ২০ দলের নেতৃবৃন্দ যুক্ত আছেন। আলাপ-আলোচনা করে সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY