বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে এরশাদ কেন আবারও হাসপাতালে: যা বলছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব

240

 দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং জাতীয় পার্টির নেতা এইচ এম এরশাদ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এ নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে তার অসুস্থতা কতটা গুরুতর। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও এইচ এম এরশাদকে সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেবার নির্বাচনে যাবেন না বলে ঘোষণা দেয়ার পরই তাঁকে জোর করে সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরশাদের অসুস্থতা নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেন :

আপনাদের দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ কেন সামরিক হাসপাতালে?

উনি রুটিন চেক-আপের জন্য হাসপাতালে গেছেন। উনি নিয়মিতই যান। হাসপাতাল থেকে উনি কালও চলে আসতে পারেন। দু’এক দিন দেরিও হতে পারে। হাসপাতালের সব বড় বড় কর্মকর্তারা সেখানে উনার দেখাশোনা করছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, মেজর জেনারেল পদমর্যাদার লোকজন।

উনার কি কোন বিশেষ শারীরিক অসুবিধা আছে?

না, স্বাভাবিক চেক আপ। ব্লাড সুগার, হার্ট, প্রেশার এসব। ব্লাড সেলগুলোও দেখা হচ্ছে।

রেগুলার চেক-আপই যদি হবে, উনাকে ভর্তি হতে হলো কেন?

শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরি এবং এইচ এম এরশাদ। এবারের নির্বাচনেও কি তারা এক নৌকায়?শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরি এবং এইচ এম এরশাদ। এবারের নির্বাচনেও কি তারা এক নৌকায়?

না, উনি প্রায়শই এরকম গিয়ে এক-আধ দিন থাকেন। উনি তো সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে ক্যান্টনমেন্ট তারও একটা আস্থার জায়গা। বাসার চেয়ে কম না। উনি সেখানে এক আধ দিন থাইকা আবার চলে আসেন।

কবে নাগাদ উনি হাসপাতাল থেকে চলে আসবেন বলে আশা করছেন?

দু’এক দিনের মধ্যেই আসবেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও তো উনাকে এভাবে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল?

(হেসে) দিন তো একভাবে যায় না। সবসময় কি একই রকম যায়? সব সময় তো একই রকম যায় না।

অনেকে এটাকে গায়েবি অসুস্থতা বলছেন, এটি তা নয় আসলে?

না, অসুস্থতা না। উনি একটু গেছেন, দু্’এক দিন থাকার পর আবার আসবেন। আপনি যদি দু’একদিন পর আমার সঙ্গে কথা বলেন, এটা লাউড এন্ড ক্লিয়ার হবে।

আপনি কি উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন, কথা বলতে পারছেন, দলের নেতারা কি উনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন?

আমি নিজে তো দুপুরে আসলাম। আবার একটু আগে কথা বলেছি। কোন অসুবিধা নাই তো। যেটা আপনাদের ভাবনা, তা নয়। যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা মিথ্যা। বিভ্রান্তিকর। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা। উনি জাতীয় নেতা। দলের চেয়ারম্যান। সাবেক রাষ্ট্রপতি। সাবেক সেনা প্রধান। এখন একটা নির্বাচনের কার্যক্রম চলছে। এখন এ ধরনের বক্তব্য আসাটা অনাকাঙ্খিত। আমরা নির্বাচনে আছি। এবং উনি নির্বাচনে গুলশান থেকে, রংপুর থেকে নির্বাচন করবেন। আরও দুটি আসনেও কথা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে এবারও কি জাতীয় পার্টিকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া চলছে?নির্বাচনের আগে এবারও কি জাতীয় পার্টিকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া চলছে?

আপনারা যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন করবেন, সেই আলোচনা কি শেষ করে ফেলেছেন? কে কত আসনে নির্বাচন করবেন?

আলোচনা খুব স্বাভাবিক এবং আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে হচ্ছে। চূড়ান্ত হলে আপনারা জানতে পারবেন। সেরকম কোন প্রতিকুল অবস্থা নেই। আমরা শুরু করেছি। আমরা অনেকদূর এগিয়ে আছি। এটা স্পষ্ট হবে। দু’চারদিনের মধ্যে জানাতে পারবো।

আপনাদের ওপর কি সরকারের দিক থেকে এমন কোন চাপ আছে, যে তাদের সঙ্গেই থাকতে হবে, বিএনপি বা আর কারও সঙ্গে যেতে পারবেন না?

হ্যাঁ চাপ আছে। সেটা হলো, ভালোবাসার চাপ। আস্থার চাপ। বিশ্বাসের চাপ। সেটা তো উপেক্ষা করা যায় না।

আপনি বলছেন যে আপনাদের দলের চেয়ারম্যান ভালো আছেন, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই হাসপাতালে গেছেন, তাকে জোর করে সেখানে নেয়া হয়নি?

না, না, নেয়া হয়নি। আপনি ভালো থাকবেন। (এরপর উনি ওবায়দুল কাদের সাহেব ফোন করেছেন বলে লাইন কেটে দেন)।

যা ঘটেছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে

২০১৩ সালে জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। শুরুতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও ৩রা ডিসেম্বর হঠাৎ করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, সব দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জাতীয় পার্টির এই সিদ্ধান্ত তখন আওয়ামী লীগ সরকারকে ভীষণ বিপাকে ফেলেছিল। তবে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একাংশ নির্বাচন যাচ্ছে বলে ঘোষণা করে।

এরকম এক পটভূমিতে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদকে র‍্যাব আটক করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয় ঢাকার পত্রিকায়। তবে র‍্যাবের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, তিনি আটক হননি, তাকে চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে দলের কোন কোন নেতা তখন দাবি করেছিলেন, এরশাদ অসুস্থ নন।

এরপর বেশ কিছুদিন এরশাদকে সামরিক হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল। তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ ছিল। তবে ‘অসুস্থ’ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও এরশাদকে গলফ খেলতে দেখা গেছে বলেও সেসময় পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

সূত্র বিবিসি বাংলা

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY