আওয়ামী লীগ নেতাদের ২৩ এবং বিএনপি নেতাদের ৩৭ স্বজন এবার ভোটে আগ্রহী রাজনীতিতে নেতাদের দ্বিতীয় প্রজন্ম

195

  দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌  রাজনীতিতে আসছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বজনরা। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের ২৩ জন স্বজন এবার নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিএনপি নেতাদের ৩৭ জন স্বজন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। নানা আইনি জটিলতার কারণে কোনো কোনো আসনে নেতারা দাঁড়াতে পারবেন না বলে স্বজনদের এনেছেন। কোথাও কোথাও নেতাদের উত্তরাধিকারীরা নৌকা ও ধানের শীষে প্রার্থী হতে চান। বিভিন্ন আসনের প্রবীণ সংসদ সদস্যরাও নিয়ে আসছেন তাদের ছেলেমেয়ে কিংবা ভাইদের। কেউ কেউ আবার আগেভাগে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। কোথাও নেতার অবর্তমানে স্ত্রী, কোথাও আবার স্বামী-স্ত্রী দুজনই হতে চাইছেন প্রার্থী। একাধিক আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দুই ভাই। আছেন চাচা-ভাতিজাও।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ফরিদপুর-২ আসনের তিন বারের সংসদ সদস্য। এবারও তিনি এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন। একই সঙ্গে এই আসনে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে আয়মান আকবর চৌধুরীও আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য। এবার তিনি গুরুতর অসুস্থ। ব্যাংককে চিকিত্সাধীন এই নেতার তিনজন স্বজন একই আসন থেকে ফরম কিনেছেন। এরা হলেন দুই আপন ভাই সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম, সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম এবং চাচাতো ভাই সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটো। মো. আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর উপ-নির্বাচনে প্রার্থী করা হয় তার ছেলে রেজওয়ান আহমেদ তৌফিফকে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রেজওয়ান আহমেদ তৌফিফ এবারও দলের মনোনয়ন পেতে পারেন। রাষ্ট্রপতির আরেক ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন সৈয়দ আশরাফের আসন কিশোরগঞ্জ-১ থেকে।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আবদুস সামাদ আজাদের বড় ছেলে আজিজুস সামাদ ডন সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি চট্টগ্রাম-৮ ও ৯ আসন থেকে মনোনয়নের আবেদনপত্র কিনেছেন। এ দুই আসন থেকেই ফরম তুলেছেন তার ছেলে মুজিবুর রহমান। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন নুরুল ইসলাম। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নির্বাচন করেননি। আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে (জাপা) আসনটি ছেড়ে দেয়। পরে ২০১৫ সালে টেকনোক্র্যাট কোটায় তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী করা হয়। চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদপত্র কিনেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোশাররফ হোসেন দলের মনোনয়নের আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। একই সঙ্গে এই আসনে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল জলিলের ছেলে নিজাম উদ্দিন জলিল নওগাঁ-৫ আসন থেকে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। নরসিংদী-৫ আসন থেকে সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজুর পাশাপাশি নৌকা প্রতীক পেতে মনোনয়নের আবেদনপত্র তুলেছেন রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজুর ছেলে রাজিব আহমেদ পার্থও। সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আসাদুজ্জামানের পুত্র ও প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। বাগেরহাট-১ আসন থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাতিজা শেখ হেলাল উদ্দিন আবার মনোনয়ন পাচ্ছেন, এটা অনেকটা নিশ্চিত। শেখ হেলাল উদ্দিনের ছেলে শেখ সারহাম নাসের তন্ময়ের পক্ষে বাগেরহাট-২ আসন থেকে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করা হয়েছে। খুলনা-২ আসনে হেলাল উদ্দিনের ভাই শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। এই আসনে তিনি আসার পর আর কেউ ফরম তোলেননি।

ঢাকা-৭ আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন গতবার স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী হাজী মোহাম্মদ সেলিম। একই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তার ছেলে সোলাইমান সেলিম। দিনাজপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়ের ছেলে মানবেন্দ্র রায় দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। এই এলাকায় একাধিকবার নির্বাচিত সতীশ গত দুই নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। গত ১০ বছর ধরে আসনটির প্রতিনিধিত্ব করছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। গাজীপুর-৩ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার রহমত আলী। প্রবীণ এই নেতার নির্বাচন করার মতো শারীরিক সামর্থ্য আছে কি না, এ নিয়ে সংশয় আছে। আর পিতার বিকল্প হিসেবে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন তার ছেলে জামিল আহসান দুর্জয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি এবার মনোনয়নের আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন। একই সঙ্গে তার ছেলে সাজেদুল হোসেন দীপু চৌধুরীও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। নাটোর-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস। একই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তার মেয়ে যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি।

ঠাকুরগাঁও-২ আসন ছয়বারের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। এ আসন থেকে মনোনয়ন কিনেছেন এমপিপুত্র মাজহারুল ইসলাম সুজন। কুমিল্লা-৬ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খান। একই আসন থেকে তার দুই সন্তানও মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমা যিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। আফজল খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ খান ইমরানও এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক নির্বাচন করতে পারবেন না। তার নির্বাচনী আসন বাগেরহাট-৩ এ বর্তমান সংসদ সদস্য স্ত্রী হাবিবুন নাহার। ২০০৮ সালে খালেক খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর একই বছরের জাতীয় নির্বাচনে রামপাল আসনে প্রার্থী হন হাবিবুন নাহার। ২০১৩ সালে খুলনায় খালেক হেরে তার এলাকায় ফেরেন। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনে খালেকই পান মনোনয়ন। গত মে মাসে খালেক সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে খুলনা সিটি নির্বাচনে অংশ নিলে ফাঁকা হওয়া আসনে আবার প্রার্থী করা হয় তার স্ত্রীকে।

এদিকে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মহসিন আলী ২০১৫ সালের শেষ দিকে মারা গেলে ফাঁকা হওয়া মৌলভীবাজার-৩ আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হয় তার স্ত্রী সায়রা মহসিনকে। এবারও তিনি মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা যাওয়ার পর ২০১৭ সালের মার্চের উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হয় তার স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তকে। এবারও তিনি নৌকার প্রার্থী হতে ফরম সংগ্রহ করেছেন।

বিএনপি নেতাদের যেসব স্বজন ধানের শীষ চান

জানা গেছে, বার্ধক্য, বিদেশে অবস্থান, সাজা, মামলা বা অন্য কারণে বিএনপির যেসব নেতা প্রার্থী হতে পারবেন না, তাদের আসনে এবার স্বজনদের প্রার্থী করা হতে পারে। কেন্দ্রীয় যেসব নেতার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার আশঙ্কা আছে, সেসব আসনে তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নাটোর-১ আসনে নির্বাচন করতে পারেননি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান। তখন ভোটে দাঁড়ান তার স্ত্রী কামরুন্নাহার শিরিন। এবার তিনি দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। যশোর-৩ আসনের বিএনপির প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মনোনয়ন ফরম ক্রয় করে জমা দিয়েছেন। টাঙ্গাইল-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদন্ড পাওয়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু। এই আসনে ফরম তুলেছেন তার দুই ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও শামসুল আলম তোফা। এছাড়া তারা টাঙ্গাইল-১ আসন থেকেও মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার। একই সঙ্গে এ আসন থেকে তার ছেলে নওশাদ জমিরও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

নাটোর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। একই সঙ্গে এই আসনে তার সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমিন ছবিও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হতে চান দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তার স্ত্রী রোমানা ইকবাল মাহমুদও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদও মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন। যদি কোন কারণে সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রার্থী হতে না পারেন তাহলে স্ত্রী হবেন ধানের শীষের প্রার্থী। ময়মনসিংহ-৫ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ কে এম মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই জাকির হোসেন বাবলু মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী সদর থেকে দলের মনোনয়ন চান। তার স্ত্রী বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা ঢাকা-৯ আসন থেকে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। নোয়াখালী-২ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। একই আসনে তার মেয়ে তামান্না ফারুকও মনোনয়ন চেয়েছেন। নোয়াখালী-৩ আসনে দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু। তার সহধর্মিণী শামীমা বরকত লাকীর একই আসন থেকে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন।

মানিকগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষ পেতে চান বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু ও খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু। দুই জনই দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। মানিকগঞ্জ-২ আসনে প্রয়াত শিল্পমন্ত্রী শামসুল ইসলাম খানের ছেলে ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ধানের শীষ প্রতীক পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে মনোনয়ন কিনেছেন বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আর রশীদ খান মুন্নুর মেয়ে আফরোজা খান রিতা। ঢাকা-১ আসন থেকে দলের মনোনয়ন চান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। তার জামাতা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম ঢাকা-৮ আসন থেকে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। ঢাকা-২ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। তার ছেলে ইফরান ইবনে আমানও দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মনোনয়ন চান। তার মেয়ে অপর্ণা রায় ও পুত্রবধূ নিপুণ রায়ও মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহম্মেদ মনোনয়ন প্রত্যাশী। সালাহউদ্দিন আহম্মেদের ছেলে তানভীর আহম্মেদ রবিন ঢাকা-৪ আসন থেকে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করে জমা দিয়েছেন। ঢাকা-৬ আসন বিএনপির মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রয়াত নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা ধানের শীষ প্রতীক পেতে চান। ঢাকা-৮ ও ৯ আসন থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দলের মনোনয়ন চান। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ঢাকা-৯ আসন থেকে দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন। ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেকের ছেলে সৈয়দ সিদ্দিক সাজু দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পান এ এম বদরুজ্জামান খান খসরু। তিনি সম্প্রতি মারা যান। তার ছেলে মাহমুদুর রহমান সুমন এবার এ আসনে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত হয়ে কারাগারে মারা যান আব্দুল আলীম। জয়পুরহাট-১ আসনে আব্দুল আলীমের ছেলে ফয়সল আলীম দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন। নেত্রকোনা-৪ আসনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরের আসনে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন তাই দুই স্বজন। তারা হলেন লুত্ফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান এবং ছেলে লাবিব ইবনে জামান। কুমিল্লা-১ আসন থেকে মনোনয়ন চান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আর কুমিল্লা-২ থেকে ফরম কিনেছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেন। মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত নেতা শামসুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবু। চাঁদপুর-১ আসনে মনোনয়ন চান সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তার স্ত্রী নাজমুন্নাহার বেবীও এবার দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে এবার তার দুই জন স্বজন মনোনয়ন চান। তারা হলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ও অন্যজন ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। সিলেট-২ আসনে বিএনপির নেতা এম ইলিয়াস আলীর আসনে দলের জন্য মনোনয়ন চান তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। একই আসন থেকে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন ইলিয়াস আলীর পুত্র আবরার ইলিয়াস। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ মারা যাওয়ায় গাজীপুর-৪ আসনে তার ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নানকে দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন। ফরিদপুর-২ আসনে কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ রিংকু দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY