দেশে জামায়াতে ইসলামী নামে কোনো দল নেই: কাদের সিদ্দিকী

199

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক: গতবার সংসদ নির্বাচন বয়কট করে বেকায়দা থাকা বিএনপি এবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। জামায়াতের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল হওয়ায় ধানের শীষ প্রতীকে বিতর্কিত এ দলটি ভোটের মাঠে নামছে, আবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরীক দলগুলো ধানের শীষে ভোটযুদ্ধে নামছে। একই সঙ্গে জামায়াত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী?

এ প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী নামে কোনো দল নেই বলেই জানি।

এ বিষয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আসলে আমি জানি না, আপনি কোথা থেকে পেলেন জামায়াতকে। এখন দেশে কোনো জামায়াত নেই। দেশের মানুষ যারা আছে, এ দেশের নাগরিক, বয়স হলে তাদের যে কেউ নির্বাচন করতে পারে। এ অধিকার সংবিধান সবাইকে দিয়েছে।

কাদের সিদ্দিকীর এ মন্তব্যের পেছনে যুক্তি হল, নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল ঘোষণা করেছে। উচ্চ আাদালত একই রায় দিয়েছে। কাজেই বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী নামে কার্যত কোনো রাজনৈতিক দল নেই। তবে দলটি অনিবন্ধিত সংগঠন হিসেবে নিজেদের সাংগঠনিক তৎপরতা বজায় রেখেছে।

দেশের অন্যতম বৃহত্তম দল বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াত। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া বিএনপি নেতৃত্বাধীয় ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল তারা। নিবন্ধন না থাকায় দলটির প্রার্থীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকও পাচ্ছেন না। ফলে বিকল্প উপায়ে জোটের প্রধান দল ধানের শীষ নিয়েই নির্বাচনে নামছেন তারা।এরই মধ্যে বিএনপি তাদের নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষে জামায়াত নেতাদের মনোনয়নও দিয়েছেন। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টে শরিক দলগুলো ধানের শীষ নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামছে।

এই পরিস্থিতি অস্বস্তির মধ্যে থাকা জাতীয় ঐক্যফন্টের অন্যতম নেতা কাদের সিদ্দিকীর অভিমত হলো, এটা সত্য যে জামায়াতে ইসলামী দলটির অস্তিত্ব কার্যত না থকলেও জামায়াতিরা আছে এবং তাদের তৎপরতাও আছে।

এক্ষেত্রে একই প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করার যৌক্তিক ব্যাখা দিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন,আমি যখন একটা ট্রেনে উঠব, তখন সে ট্রেনে টিকিট করে যে কেউ উঠতে পারে। আমার কোনো অধিকার নেই যে, আমি সেই ট্রেনে তাকে নেব কি নেব না। রিজার্ভ ট্রেন হলে কিছুটা চেষ্টা করা যায়। কিন্তু যাত্রীবাহী ট্রেনে সেই চেষ্টা করার কোনো সুযোগ নেই।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY