নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি ফেনীতে ভিপি জয়নাল অবরুদ্ধ

205

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ভিপি অভিযোগ করেছেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে সরকার দলীয় লোকজন তাকে বাড়ীতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে অজ্ঞাত নাম্বার থেকে অব্যাহতভাবে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে সরকার দলীয় লোকজন। তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, কোন প্রকার ভয়-ভীতিকে পরোয়া করিনা। আমাকে জানে মেরে ফেললেও আমি নির্বাচন থেকে সরে যাবো না।

ফেনী শহরের বিরিঞ্চির আবুল কালামের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন শতাধিক নেতাকর্মী তার বাড়ীর সীমানা প্রাচীরে বোমা ও বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করেছে। তার বাড়ির চারপাশে সন্ত্রাসিরা পাহারা বসিয়ে আগত নেতাকর্মীদের মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। বাড়ির আশপাশের লোকজনকে হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে।
শনিবার বিকালে ফেনী শহরের ফলেশ্বরস্থ বাসভবনে অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি নিজকে স্বপরিবারে অবরুদ্ধ দাবি করে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগগুলো করেন।

তিনি আরো বলেন, শনিবার সকালে তার বাড়িতে আসার পথে ফরহাদ নগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাচ্চু, কাজীরবাগ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শামছুল হক, সদর উপজেলা যুবদল যুগ্ম-আহবায়ক তারেক ইকবাল মনি, মো. ইয়াছিন, শাহাদাত হোসেন ও ফতেহপুরের এক বয়োবৃদ্ধকে মারধর করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নির্মম নির্যাতন চালিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এছাড়া তার বাড়িতে আগত নেতাকর্মীদের পকেটে থাকা টাকা, হাতঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসিদের হাত থেকে এলাকার দিনমজুরেরাও রেহাই পাচ্ছেনা। এসব হামলা নির্যাতনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিরিঞ্চির মফিজুর রহমানের ছেলে মীর জাফর আবুল কালাম, জাহিদুল আলম, আজম খান সজিব, আরাফাত, সাদ্দাম, আবদুল হালিম, রফিকুল ইসলাম রুবেল, আবদুল করিম, সুমন, সোনাপুর গ্রামের গণি সহ প্রায় তিনশতাধিক সন্ত্রাসী।

তিনি এসব বিষয়ে প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের জানিয়েও কোন প্রতিকার পাননি বলেও অভিযোগ করেন।

বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি  শনিবার বিকালে ফলেশ্বর তার বাািড়তে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বলেছেন, ২৮ নভেম্বর মনোনয়ন জমা দেয়ার পর থেকে সরকার দলীয় ক্যাডারা তাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ারও হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন আমাকে হত্যা করা হলেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হবে না এবং বাড়ি ছেড়ে যাবো না।

সাবেক এ সংসদ সদস্য লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, বিরিঞ্চির মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে আবুল কালামের নেতৃত্বে ৫নং ওয়ার্ডের জাহিদুল ইসলাম, আজম খান সজিব, আরাফাত, সাদ্দাম, ৬নং ওয়ার্ড ফলেশ্বর গ্রামের আবদুল হালিম, রফিকুল ইসলাম রুবেল, আবদুল করিম, আবদুল হালিম সুমন ও সোনাপুর গ্রামের গণি প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি ও গুলি ছোটে। এসময় ৮ থেকে ১০টি হোন্ডা করে প্রতিটি হোন্ডায় ৩ জন করে বাড়ির সামনে এসে ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং শ্লোগান দিয়ে বলে ভিপি জয়নাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাও না হয় মেরে ফেলার হুমকি দেন।

ভিপি জয়নাল বলেন, সরকার দলীয় ক্যাডারদের অত্যাচার নির্যাতনের বিষয়টি বর্তমান ফেনী সদর আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীকে অবহিত করে ক্যাডারদেরকে নিভৃত্ব করার জন্য অনুরোধ করি। এছাড়াও নিজাম হাজারীর অত্যান্ত ঘনিষ্ট রাজনৈতিক সহকর্মী আবু সুফিয়ান ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহারকে নিজাম হাজারীর সাথে কথা বলেন চলমান ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য অনুরোধ করি। নিজাম উদ্দিন হাজারী এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।

কিন্তু দু:খের বিষয় হলো তার পরবর্তীতে নৈরাজ্যের মাত্র আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামান, পুলিশ সুপার এস. এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও ফেনী মডেল থানার ওসি মো: আবুল কালাম আজাদকে জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য বারবার অবহিত করা হয়। তারা মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করলেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেয় নাই। এখনো ক্যাডারা সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করছে।

লিখিত বক্তব্যে এ বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে ফলেশ্বরস্থ বাড়ির প্রধান প্রবেশপথ, সদর উপজেলা কার্যালয়ের মোড়, বাড়ির পশ্চিম উত্তর পাশ্বে ফেনী বিলোনীয়া রেল লাইন, সদর হাসপাতাল মোড়, পেট্টোল পাম্প, ফেনী পলিটেকনিক, বিএড কলেজ মোড়, পুরাতন রানীর হাট এবং বাড়ির পূর্বপাশ্বে ফলেশ্বর পরশুরাম সড়কের সংযোগ মুখে প্রায় ৩ শতাধিকেরও বেশী সশস্ত্র অবস্থান করে। এদের অনেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, দামা, কিরিচ, হাত বোমা, চাপাতি, রড, লাঠিসোটা রয়েছে। অবস্থানের পর থেকে তারা চেনা অচেনা অনেক মানুষকে শারিরীকভাবে আঘাত করে।

এদের মাধ্যে কাজীবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সামছু মিয়া, ফরহাদ নগরের সাবেক চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বাচ্চু, শশর্দী ইউনিয়নের তারেক ইকবাল মনি, ইয়াছিন, শাহাদাত এবং ফতেহপুরের বৃদ্ধ ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। এছাড়াও রাস্তায় চলাচলকারী নিরীহ বহু মানুষকে নির্যাতন করে তাদের পকেটের টাকা, হাতঘড়ি, মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমি একজন রাজনীতিবিদ, ফেনী সদর আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলাম। বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা। আসন্ন নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে আমাকে সদর আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবেন বলেন তিনি জানান।
এসময় জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও তার ছেলে রাশেদ ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY