ভোটকেন্দ্রে লাশ যাবে তবু নির্বাচন বর্জন নয়: কামাল

261
ভোটকেন্দ্রে লাশ যাবে তবুও নির্বাচন বর্জন নয়: কামাল

ঢাকা প্রতিনিধি:  ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, নির্বাচন কমিশন যে ধরনের বাকশালী আচরণ করছে তাতে দুই একদিনের মধ্যে তারা কোনও পদক্ষেপ না নিলে, আমরা সিদ্ধান্ত নেব কি করবো। আমরা দুই দিনের মধ্যে সেনা মোতায়েন চাই। তবে পরিস্থিতি যাই হোক আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবো। ভোটকেন্দ্রে লাশ যাবে তবুও নির্বাচন বর্জন করবো না।আজ সোমবার বিকেলে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, আমি ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম। সে সময়ে এমন পরিস্থিতি দেখিনি।

আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন, শুধু একটি দলের প্রচারণা দেখছেন আর কোনও দলের পোস্টার দেখা যাচ্ছে না কেন? আপনারা যদি ধানের শীষের একটি পোস্টারও দেখাতে পারেন, তাহলে আমাকে জানাবেন। আমি গিয়ে দেখে আসবো।তার আগে ইসির সঙ্গে বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা ইসিকে তথ্য দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বললাম- পুরো দেশে উত্তর-দক্ষিণ সব জায়গা থেকে অভিযোগগুলো পেয়েছি। পেশিশক্তি নিয়ে প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। যারা নির্বাচনে কাজে নেমেছে তাদের ওপরই আক্রমণ হচ্ছে। কেউ পোস্টার লাগাতে পারছেন না। বক্তব্য দিতে পারছেন না। বিভিন্ন জায়গায় একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হচ্ছে। যারা নির্বাচন করার জন্য এগিয়ে এসেছেন তাদের নিরুৎসাহিত করার জন্য এসব করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এক দলের পোস্টার ছাড়া অন্য কোনও দলের পোস্টার দেখা যায় না। এটা আমি জীবনে দেখিনি। শুধু এক দল মাঠে থাকে অন্য দল মাঠে নামতে পারে না। আমি যতদিন বেঁচে থাকি এ কথাগুলো বলে যাব। আপনাদের সামনে বলব, মানুষের সামনে বলব। প্রতিকার দাবি করব। মানুষের ভোটাধিকারের ক্ষমতার কথা বলব। লাখো শহীদ সেই ক্ষমতা দিয়ে গেছেন- সেটা থেকে যেন জনগণ বঞ্চিত না হয়। এখন যে প্রক্রিয়া চলছে তাতে বঞ্চিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত। এটি দ্রুত বন্ধ করতে হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্য কমিশনার ছাড়াও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের ড. কামাল হোসেন ছাড়াও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মিন্টু, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY