স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় যাওয়া জাতির জন্য গ্লানিকর

181

ঢাকা প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধীরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে তা হবে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারীদের জন্য গ্লানিকর। তাই ছোট-খাট ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি আরও বলেন, আবার নৌকাকে বিজয়ী করলে দেশের আরও উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এনে দেব, আর এটাই আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কাজ করতে গিয়ে আমার বা আমার সহকর্মীদেরও ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকতে পারে। নিজের ও দলের পক্ষ থেকে আমাদের যদি কোনো ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকে, সেগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য দেশবাসী আপনাদের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। অতীতের ভুল-ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আগামী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যত্ বিনির্মাণে নৌকায় ভোট প্রত্যাশা করেন তিনি।’ ভোটারদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরও সুন্দর ভবিষ্যত্ নির্মাণ করব। জাতির পিতার কাঙ্ক্ষিত ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’ টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগ ‘টেকসই বিনিয়োগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’ নিশ্চিত করতে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কথা নয়, কাজে বিশ্বাস করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা সাড়ম্বরে পালন করব। বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে রেখে, মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী আওয়ামী লীগই পারবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে দিতে, পারবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে। গৌরবের এই সময়কালে স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে তা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে গ্লানিকর হবে। জনগণ ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতাসীন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা মার্কায় বিজয় অর্জন করবে, এ বিশ্বাস আমাদের আছে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।’

নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আবার আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করুন। আপনারা নৌকায় ভোট দিন। আমরা আপনাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন করে দেব। এটা আমাদের জাতির কাছে ওয়াদা।’ নিজের ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘বাবা-মা-ভাই, আত্মীয়-স্বজনকে হারিয়ে রাজনীতি করছি শুধু জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। এদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। এদেশের সাধারণ মানুষ যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারে, উন্নত জীবন পায়, তাদের জীবন সমৃদ্ধশালী হয়, ক্ষুধা দারিদ্র্য থেকে, বঞ্চনা থেকে তারা মুক্তি পায়। তাদের জীবনটাকে উন্নত করা, এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য, একমাত্র কামনা।

২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হবে এবং ২০২০ সালের মধ্যে সকলের জন্য বিদ্যুত্ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া মহেশখালী, মাতারবাড়ী এবং পায়রাতে একটি করে এনার্জি হাব গড়ে তোলা হবে।

বুলেট ট্রেন :প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালু করা হবে। দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিকায়ন এবং একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ৫ বছরে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন এবং ঢাকার চারপাশের ৪টি নদী-খালগুলো খননের মাধ্যমে নদী তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার জন্য যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা হবে জানিয়ে ইশতেহারে বলা হয়, রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা হবে। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য আন্ডারপাস/ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, মেট্রো-রেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের নির্মাণ কাজ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত অংশ পরের বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে।

ব্যাংক জালিয়াতির শাস্তি :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় গেলে দেশের ব্যাংক খাতের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ অধিকতর কার্যকর ও শক্তিশালী করা হবে। ঋণসহ ব্যাংক জালিয়াতি কঠোর হস্তে দমন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঋণ গ্রাহক ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY