আমার জীবনে নির্বাচনের এমন চিত্র দেখিনি: ড. কামাল

190

বিশেষ প্রতিনিধি: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এবারের নির্বাচনের চিত্র নজিরবিহীন। আমি ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের নির্বাচন দেখছি। আমার জীবনে কোনোদিন নির্বাচনের এমন চিত্র দেখিনি। এতে বোঝা যায়, কেন্দ্রীয় আদেশ-নির্দেশের ভিত্তিতে এগুলো করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণভাবে সংবিধান লঙ্ঘন।শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে ঐক্যফ্রন্টের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন জিনিসটা কি? একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নির্বাচনে সরকারি দলের লোক থাকে, বিরোধী দলের লোক থাকে। তারা  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদেরকে জনগণ ভোট দেবে। তাই ভোট চাওয়ার জন্য এদেরকে জনগণের কাছে যেতে হয়, আবেদন করতে হয়।তিনি আরও বলেন, ঐক্যফ্রন্টের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এখন পুলিশ। যেসব নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তারা হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তার করে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়া করছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে তাদের প্রত্যাহার করে সেখানে নিরপেক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৩টি নির্বাচনী এলাকায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থিতা শূন্য হয়ে গেছে। ২০ ডিসেম্বরও ১১ জনের প্রার্থিতা স্থগিত করেছেন কোর্ট। ১৬ জন প্রার্থী কারাগারে।

নির্বাচন কমিশন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন করে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের ক্ষেত্রে পদত্যাগ করে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিধান করেছে। অন্যদিকে উচ্চ আদালত একে একে তাদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে চলেছেন। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের নির্বাচনের আগেই মাঠ থেকে সরে যেতে হচ্ছে এবং এর সুবিধা নিচ্ছেন ক্ষমতাসীনরা। ড. কামাল বলেন, ২৭ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে আগামী ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা-৪ থেকে ১৮ আসনের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একই সময়ে জনসভা ও গণমিছিল হবে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY