করোনা ক্রান্তি কালের বিশ্লেষণ ধর্মী লেখা “প্রসঙ্গঃ-কোরোনা প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা।”দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার”লিখেছেন কলমযোদ্ধা- সরওয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস।

90
“প্রসঙ্গঃ- কোরোনা প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা। " দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। ”লিখেছেন কলমযোদ্ধা - সরওয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস

প্রসঙ্গঃ- কোরোনা প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা।
” দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।”
সরওয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস।

দেশের কোরোনা পরিস্থিতি অর্থ্যাৎ আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আমরা সাধারণ মানুষ চরম ভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত এবং আতঙ্কিত। এখান থেকে পরিত্রানের জন্য বা এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার লকডাউনের কর্মসুচী ঘোষণা করেছেন। এ ধরনের কর্মসুচী যথাযথ প্রতিপালিত হলে আক্রান্তের উর্দ্ধমুখী প্রবণতা নিম্নমুখী হতে পারে। তবে বিভিন্ন কারনে এ ধরনের কর্মসুচী সফল হয় না, বিধায় পরিপুর্ন সুফল পাওয়া যায় না। মনোবিজ্ঞান বলে, শক্তি প্রয়োগ করে মানুষের স্বভাব বা ইচ্ছার পরিবর্তন করা যায় না। পরিবর্তনের জন্য কাউন্সিলিং এবং প্রচার প্রপাগান্ডার মাধ্যমে সচেতন করাটাই জরুরি। দেশে কোরোনা শুরুর প্রাক্কালে সর্ব মহল থেকেই দাবী উঠেছিল ভয়াবহ রোগটি প্রতিরোধের জন্য জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে কর্মসুচী প্রণয়নের জন্য। সে সময় ঐক্যমত্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা তো হয়ই নাই উপরন্ত দায়িত্বশীল ব্যাক্তিবর্গ এমন কিছু বক্তব্য -বিবৃতি দিয়েছেন তাতে একদিকে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে সমগ্র জাতিকে হতাশ করেছে। সুতরাং কেন্দ্রে যখন হয় নাই তখন মফস্বলেও হয় নাই। তবে সে সময়ও বলেছি এখনও বলছি আসুন দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন পর্যায়ের গণপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারি সহ সুশীল সমাজ এবং সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক যৌথ ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বৈঠক অথবা ভার্চুয়াল বৈঠক করে গণসচেতনতার জন্য কর্মসুচী প্রণয়ন করি। আমরা বুভুক্ষ মানুষকে খাদ্য দিতে না পারলেও তাদের সচেতনতা সৃষ্টি করে নাগরিক দায়িত্বটুকু অন্তত পালন করতে পারি। এই সংগে অবশ্যই যুক্ত করতে হয় করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থা । সাম্প্রতিক কালের তথ্য রাজধানীর বাহিরে মৃতের সংখ্যা বেশী। কারন রাজধানীর বাহিরে বিভাগীয় শহরেও চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল। ঈশ্বরদী বা আশে পাশের এলাকাতে সংক্রমনের যে হার সেই তুলনায় চিকিৎসা ব্যবস্থা নাই বললেই চলে। যে কারনে গত বছর থেকেই পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালকে নিবিড় করোনা হাসপাতালে রপান্তরের জন্য লেখালেখির মাধ্যমে সরকারের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষন পুর্বক দাবী এবং অনুনয়-বিনয় করে আসছি। ঐ সমস্ত লেখাতে পাকশী হাসপাতালকে কোরোনা হাসপাতালে রুপান্তরের প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা এবং সম্ভাব্যতা নিয়ে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিয়েছি। এখন প্রয়োজন সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জনসম্পৃক্ত কিছু কর্মসুচী। তা হতে পারে পোষ্টারিং, লিফলেটিং, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, গোলটেবিল বৈঠক এমন কি মানব বন্ধনের মত কিছু কর্মসুচী। বিষয়টির ব্যাপারে মাননীয় সাংসদ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বর সহ সকল গণপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, সম্পাদক সহ সচেতন জনগোষ্টির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি মনে করি বা বিশ্বাস করি মানবতার কল্যানে কাজ করাই মানব জন্মের সার্থকতা। অর্থ, বিত্ত, বৈভব নয় একমাত্র জনকল্যান মুলক কাজই মানুষকে মৃত্যুর পরেও স্মরণীয় করে রাখে। কোরোনা কখন কাকে আক্রান্ত এবং জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। তাই আসুন এ ধরনের দুর্ঘটনার স্বীকার হওয়ার পুর্বেই কোরোনা সংক্রমন প্রতিরোধ এবং কোরোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নিমিত্তে কিছু বাস্তবধর্মী কর্মসুচী গ্রহন করে জন্মের সার্থকতা সহ নাগরিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দেই।( পুনশ্চঃ ঈশ্বরদীতে তপন সরদারের নেতৃত্ব বেশ কয়েকজন উদ্যমী যুবক প্রায় একবছর যাবৎ রেলওয়ে জংশনে ভাসমান মানুষদের রাত্রীবেলা একবেলা খাবার দিয়ে অাসছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর দলটি ১৮ অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করে কোরোনা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, খাবারের অভাবে কোরোনা রোগী মরবে না, অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতে পারে। সেজন্য এখন প্রয়োজন, অারও কমপক্ষে একশত টি অক্সিজেন সিলিন্ডার। কোরোনা হাসপাতাল স্থাপন করে এ দলটিকেও কাজে লাগানো যায়। জানা গেছে, তরুণ শিল্পপতি জালালউদ্দিন তুহিন এ বিষয়ে অর্থ ও ভলান্টিয়ার দিয়ে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী। আমার বিশ্বাস,কাজটি শুরু করা গেলে তাঁর মতো অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন।)
লেখকঃ কলামিষ্ট এবং সমাজসেবক
সেলঃ- ০১৭১৩৭৪৩৭৫৬৷
মেইলঃ [email protected]

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY