মেধা,মনন আর মানবপ্রেমি”নুরুল ইসলাম” স্মরণে-জীবনবোধের লেখক আতাউর রহমান বাবলুর স্মৃতিচারণ ধর্মী লেখা“চন্দন চুম্বন”

34
আতাউর রহমান বাবলুর স্মৃতিচারণ ধর্মী লেখা“চন্দন চুম্বন”

চন্দন চুম্বন
আতাউর রহমান বাবলু


ঘড়ির কাটা রাত ন’টা পার করেছে। মানবধিকারকর্মী জাহিদুল আলম সনু কাকার ফোন। নিশ্চুপ হয়ে যা শুনলাম তা হলো ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের ইংরেজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলামের পিতা জনাব নুরুল ইসলাম মৃত্যুবরন করেছেন (ইন্না—- রাজিউন)। সংবাদটি শোনার পর মনটা কেমন যেন অন্যরকম হয়ে গেল। মরহুম নুরুল ইসলামকে জীবদ্দশায় কখনও দেখার সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তু তার আদর্শে গড়া সন্তান রবিউল ইসলামের মুখে পিতার জীবন কর্মের এতোটাই বর্ণনা শুনেছি যে, তাকে কল্পনায় দেখতে কিংবা আবিস্কার করতে এতোটুকু সমস্যা হয়নি।

আমার শতভাগ মনে হয়েছে মেধা, মনন আর মানবপ্রেমি এই মানুষটি পরিবার থেকে শুরু করে জনকল্যাণে ছিলেন নিবেদিত প্রাণ ও প্রশংসার মহাসড়ক। তিনি যেমন ছিলেন সুশীতল হাওয়া তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন তেজবান বীরপুরুষ। নিজেকে তৈরি করেছিলেন মানুষের অভিভাবক ও পরামর্শদাতা। শেষবারের মত এই মানুষটিকে এক নজর দেখার ও জানাজায় অংশ নেবার জন্য ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখ সকালে আমি, সনু কাকা, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মীর হুমায়ন করিব বিপ্লব,ঈশ্বরদী সরকারী কলেজে সহযোগী অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম,চুয়েটের ছাত্র সিয়াম, ব্যবসায়ী মাসুদ ,পরিতোষ রবি স্যারের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। দৈনিক আলাপের সম্পাদক আশিকুর রহমান এবং সংস্কৃতিক সেবক নুরুল হক থেকে গেলেন প্রাবন্দিক ও কলামিস্ট হাসান চিশতি ভাইয়ের বাবার মৃতদেহের পাশে, কারণ সেই রাতেই হাসান ভায়ের বাবা মৃত্যুবরণ করেছেন।

রবি স্যারের বাড়ির কাছে যেতেই হাজারো মানুষের ঢল,শ্রদ্ধাবণত বক্তব্য,ব্যাথতুর জীবনালেখ্য এটাই প্রমান করেছে মরহুম নুরুল ইসলাম একক কোন ব্যক্তি নয়, ঐ গ্রামের প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবক। মানুষের ভালাবাসারা কাছে হেরে যাননি তিনি। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেও হয়ে রইলেন চিরন্তনী।

জানাজা শেষে রবি স্যার নিজেই বললেন “হাসান ভাই আমার মতই পিতা হারা হলেন । আমার বাবার দাফন কাজ শেষ করতে হলে সেইখানকার জানাজা আপনারা পাবেন না বরং আপনারা জানাজায় অংশগ্রহন করুন।

আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ওখান থেকে রওনা দিয়ে চিশতী ভাইয়ের পিতার জানাজায় অংশ গ্রহণকরি। পরবর্তিতে আমি বাড়ী ফিরে মনে অজান্তেই রবি স্যারকে নিয়ে লিখে ফেললাম পিতা পুত্রের এক অস্থাচল “চন্দন চুম্বন” নামক কবিতা……

রণতরী ধেয়ে চলেছে উত্তাল সাগরে
বিনম্র্র ব্যবহারে মুগ্ধ জলরাশি
উড়ন্ত আকাশে শ্বেত মেঘমালা
ললাটে মিসেছে পিতা-মাতার চন্দন চুম্বন

 ইচ্ছে পালকে সফলতার সুবাতাস
 সহজ জীবনের সরলতায় পথচলা

লাল গালিচা অপেক্ষমান
মমতায় ঘিরেছে সত্য সুন্দর কে। #

লেখক
সাংবাদিক সংগঠক ও সাহিত্য সম্পাদক ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY