বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে ভারতের জীবন বোধের লেখক-অগ্নিমিতা দাসের বিশ্লেষণ ধর্মী লেখা “বর্তমান শিক্ষাব্যাবস্থার চাপে বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়েদের উদ্বেগের তুলনামূলক বিশ্লেষণ”

86
লেখক- অগ্নিমিতা দাসের বিশ্লেষণ ধর্মী লেখা “বর্তমান শিক্ষাব্যাবস্থার চাপে বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়েদের উদ্বেগের তুলনামূলক বিশ্লেষণ”

🟦 বর্তমান শিক্ষাব্যাবস্থার চাপে বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়েদের উদ্বেগের তুলনামূলক বিশ্লেষণ।

কলমে_ অগ্নিমিতা দাস

                ভূমিকা

⚫ছেলে ও মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই
🟦মানবজীবনে শিশু থেকে বৃদ্ধ হওয়ার পথে প্রতিটি স্তর থাকে, প্রতিটি স্তরে দৃষ্টিভঙ্গি কার্যকলাপ ভিন্ন ভিন্ন তাই প্রতিটি যেমন মনে তেমনি জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ।
🟦 বয়ঃসন্ধিস্তর মানেই জীবনের জন্য খুবই অর্থবহ কারণ এই সময়ে মানুষ কৈশোর থেকে যৌবনে উপনীত হওয়ার ফলে তাদের সমস্যা সৃষ্টি হয়, যা জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এরিকসনের মত এই স্তরটি
( ১১_ ১৮ বছর) বয়স অব্দি থাকে।
🟦এই বয়ঃসন্ধিস্তর সবসময়ই অস্তিত্ব সংকটে ভোগে।এই স্তর যৌনতা সম্বন্ধে কৌতুহল দেখা যায় ।এই সময়ে মানুষ বুঝতে পারে না নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে ।এই সময় শিশুরা বড়দের মতো আচরণ করলে বড়রা তিরস্কার করে আবার ছোটদের মতো আচরণ করলে বড়রা বিরক্ত হয়, তাই এই সময় নিজেদের নিয়ে সংকটে ভোগে এবং অদ্ভুত দ্বিধাচলে দোদুল্যমান হয়।
🟦 বয়ঃসন্ধি সমস্যার প্রভাব বয়সন্ধি সমস্যায় প্রভাব পড়ে প্রথমে পারিবারিক জীবনে পরে পরে সামাজিক জীবনে। বয়সন্ধির সমস্যা হলো একটি বিদ্রোহ প্রকাশ। যার লক্ষ্য হলো সবকিছু ধ্বংস করা বা পরিবেশকে পাল্টে দেওয়া,Cyril Burt এর মতে এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে যা প্রথাগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে বা না করেই মোকাবিলা করা যেতে পারে। William .H Sheldom এর মতে এটি হলো সঙ্গত আশা প্রত্যাশার বাইরে কোন আসামন্জস্যপূর্ণ আচরণ যে কোন লিঙ্গের সাত বছর থেকে ১৮ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। মূল সমস্যাগুলি হলো_
•Adjustment problem
•Anxiety
•Sex problem
•Social problem
•Education problem

🟦আমাদের বর্তমানে সমাজে শিক্ষাব্যাবস্থার ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বয়ঃসন্ধি অর্থাৎ কিশোর-কিশোরীরা এমনিতে তারা নিজেদের পৃথিবীতে বিপন্ন বোধ করে এবং নিজেদের একটু আত্মপ্রকাশ করতে যখন ব্যাগ্র থাকে তখন শিক্ষাব্যবস্থার অত্যাধিক চাপে ভেঙে পড়ে।এই বয়সের ছেলেমেয়েদের এমনিতেই আবেগপ্রবণ হয় ।সেই ভাবাবেগ যখন শিক্ষক ও অভিভাবকদের খবরদারিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয় তখন ঘটে নানা অঘটন।
১ )আত্মহত্যা প্রবণতা
২ )কিশোর অপরাধ
৩) বিদ্যালয়ে যেতে না চাওয়া
৪) মাদকাসক্তি
•শিক্ষাব্যবস্থায় নম্বরের নিরিখে ছাত্র-ছাত্রীদের বিচার করার প্রবণতা থেকে নম্বরের প্রতিযোগীতায় সেরা হওয়ার জন্য বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের মধ্যে হিংসা ও হীনমন্যতার জন্ম নেয়।অভিভাবকের চাহিদা পূরণ ও নিজেদের ইচ্ছার মধ্যে টানাপোড়েনের জর্জরিত হয়।
J. Stanley hall__” Stroma stress in adolescence child and adolescent”
& Lisa scheble
Steven R. Rose, Marian F
থেকে জানতে পারা যায় যে শিক্ষা ব্যবস্থার চাপের ফলে বয়ঃসন্ধির ছাত্র-ছাত্রীদের কতগুলি প্রভাব দেখা দিচ্ছে।
🟦 হীনমন্যতায় ভোগ্য_ অভিভাবকদের চাপের ফলে অনেক বয়ঃসন্ধি ছেলেমেয়েরা অন্যের সঙ্গে তুলনা দেওয়াতে নিজেদের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। উদাহরণ একই ক্লাসে পড়া দুই বন্ধু একই ফ্ল্যাটে থাকে রোহিত আর রজত। রোহিত রজতের থেকে তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করার ফলে অভিভাবকদের মধ্যে রেষারেষি বেশি থাকে। অনবরত রজত তার মায়ের কাছে রোহিতের সঙ্গে তুলনা শুনতে চলতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে হীনমন্যতায় ভোগে।
🟦একে অপরের প্রতি হিংসা_ শিক্ষাব্যবস্থার ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয় এবং অভিভাবকদের চাপ বয়সের ছেলেমেয়েরা দিশেহারা করে তোলে। অভিভাবকদের অত্যাধিক প্রত্যাশা মেটাতে না পেরে নিজেদের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে নিজের থেকে বেশি সফল বন্ধুদের প্রতি ঈর্ষা জন্ম নেয়।
হিংসা থেকে জন্ম নেয় ঈর্ষা_Jay Stanley hall মতে যে বর্তমান প্রজন্মের বয়সের ছেলে মেয়েরা নিজেদের বুঝে ওঠার আগেই শিক্ষাব্যবস্থার চাপের ফলে তারা যান্ত্রিক হয়ে পড়ে। অভিভাবকদের অনবরত তুলনা, প্রত্যাশা, শিক্ষকদের অনেক সময় কোনো ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি বাড়তি মনোযোগের কারণে অনেক সময় একই ক্লাসে পড়া সহপাঠীর মধ্যে দেখা যায় ইর্ষা।
•হিংসা থেকে জন্ম নেয় অপরাধ:
একই ক্লাসে পড়ে দুই সহপাঠীর মধ্যে লেখাপড়ার প্রতিযোগীতার কারণে বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়। একে অপরের প্রতি হিংসা থেকে জন্ম নেয় অপরাধ।

Lica Schelbe বলেছেন যে পড়াশোনার প্রতিযোগীতায় কে আগে থাকবে এই নিয়ে চলে লড়াই ।এই অসুস্থ প্রতিযোগীতার ফলে এক সহপাঠী অন্য সহপাঠীকে হিংসা করে অপরাধমূলক কার্যকলাপ করে। এক সহপাঠী অন্য সহপাঠীর ক্ষতির চেষ্টা, বিপর্যস্ত করা এমনকি হত্যার মতো মারাত্মক ঘটনাও ঘটে।
•নিরাশা: পড়াশোনার চাপে অনবরত বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েরা অনেক সময় তাল মেলাতে না পেরে নিরাশায় ভোগে।
•আত্মহত্যা: পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ায় বা ফেল করায় অনেক ছাত্র ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা সংবাদপত্র বা টিভিতে দেখতে পাওয়া যায়।
•ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে ফেলা: লেখাপড়ায় প্রতিযোগীতায় সেরা হওয়ার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার জন্য এই বয়সের ছেলেমেয়েদের অনেক সময় নিজের ইচ্ছা শক্তি হারিয়ে ফেলে।
🟦যান্ত্রিক হওয়ার ফলে পরিবারের সকলের সাথে সহজাত সম্পর্ক নষ্ট :পড়াশুনার চাপে অবনত ছেলেমেয়েরা বাঁধাধরা রুটিন জীবন যাপন করতে গিয়ে এবং শুধুমাত্র পড়াশোনার বেড়াজালে আবদ্ধ থাকার ফলে তাদের মুখের হাসি থাকে না, ঘুম থেকে ওঠা থেকে গভীর রাতে শুতে যাওয়ার সময় অব্দি তাদের পড়াশোনার রুটিন এমন থাকে যে তারা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে না, পরিবারের মানুষদের সাথে মনের আদান-প্রদান হয় না।
• দমবন্ধ চাপের মুখে পড়ে কম বয়সের ছেলেমেয়েরা সামাজিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।সারাক্ষণ পরীক্ষা আর পড়াশোনার ফলে এখনকার অভিভাবকরা বাচ্চাদের কারও সঙ্গে মিশতে দেয় না কারো বাড়ি যেতে দেয় না সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ার জন্য। তাই বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েরা সব সময় পরিবারের অন্য মানুষদের সাথে ঠিকমত মিশতে পারে না।
🟦লেখাপড়ার উদ্বেগ বাড়বার ফলে দেখা দেয় মানসিক অসুখ:
পড়াশোনা অত্যধিক চাপ এর ফলে দেখা দেয় বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের অস্তিত্ব সংকটে ভুগতে দেখা যায় ।মানসিক অবসাদের জন্য বর্তমানে বিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং করার জন্য কাউন্সিলারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
🟦পড়াশোনার চাপে খেলাধুলা না করার ফলে শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
পড়াশোনার চাপে বিকেলে এ বয়সের ছেলেমেয়েরা মাঠে গিয়ে খেলা করে না। সারাক্ষণ বই নিয়ে বসে বসে থাকার ফলে ওবিসিটি দেখা দেয়। শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি অসুখ দেখা দেয়। কমে যায় ইমিউনিটি পাওয়ার।
🟦পড়াশুনার চাপে জর্জরিত ছেলেমেয়েরা মুঠোফোন ও সোশ্যাল মিডিয়াতে আসক্ত হয়ে পড়ে।এই বয়সের ছেলেমেয়েদের ঘোরা বেড়ানো খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিনোদন বলতে শুধু তারা মোবাইলের কম্পিউটার বোঝে। অন্তর্জালের গোলকধাঁধাতে জড়িয়ে পড়ে, বয়সন্ধির ছেলে ছেলেমেয়েরা বিপথগামী হয়, এবং অতিরিক্ত অবসাদে বিপথগামী ও আত্মহত্যা প্রবণতা দেখা দেয়।
• শিক্ষাব্যবস্থার চাপে উদ্বিগ্ন বয়সের ছেলেমেয়েরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমরা এখন এখানে দেখব পড়াশোনার চাপে উদ্বেগের মাত্র ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কাদের বেশি কাদের কম, কিংবা হয়তো উভয়ই সমান।

ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে উদ্বেগের পার্থক্য: ছেলেদের মস্তিষ্ক গড়ে ৬ %, ১০ % বৃহৎ মেয়েদের তুলনায়। কিন্তু হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রমাণ করে যে মেয়েদের মস্তিষ্কের দুটো ভাগের মধ্যে সংযোগ অনেক বেশি।


Sandra Witeson professor of psychiatry and Nerouscince at MC Master University in Outurio, Canda,
বিগত ত্রিশ বছর ধরে গবেষণা দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে আয়তনে corpus , Callosum, the strip of neural tissue যেটা মস্তিষ্কের দুটি ভাগে সংযুক্ত করেছেন সেটা বয়ঃসন্ধি মেয়েদের ২৫% বৃহৎ ছেলেদের তুলনায়।মেয়েদের উদ্বেগ ছেলেদের তুলনায় অনেক বেশি, একাডেমিক স্ট্রেস মেয়েদের ছেলেদের থেকে একটু হলেও বেশি। তবে এই বিষয়টি প্রমাণসাপেক্ষ।
🟦সাহিত্যের পর্যালোচনা।(Review and f Literature)
Banerjee S.youth and exceen stress, Social welfare
বয়ঃসন্ধি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার চাপে উদ্বেগের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তথ্য দিয়েছেন প্রতি বছর ২৫,০০০ ছাত্র-ছাত্রী ১৮_ ২০ বছর বয়সের আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেMarch to June( during the time of examination) District Central records Burnell of Dharwad প্রমাণ করেছেন যে প্রতি বছর ৮থেকে ৫ জনছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করে।
Mukherjee ‘A parents don’t fret, faith .The Times of India . Retrieved June 18 ,2016 -অভিভাবকদের কাউন্সেলিং এর দরকার। অভিভাবকরা অসম্ভব চিন্তিত হয়ে যায় বিশেষ করে বোর্ড এক্সামিনেশনের সময়। অভিভাবকদের উদ্বেগ ছাত্রছাত্রীদের ওপর প্রভাব ফেলে। ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ার রুটিনের মাঝে খেলাধুলা বা বন্ধুদের সাথে গল্প করার জন্য ব্রেক পায় না, ফলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। Test, Grade, self-imposed উন্নতির পথে যেমন ছাত্র ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে যায় তেমনি উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
Kaur S Sharma “V. Depression among adolescents in relation stress and course grade. American journal of education 2007″তথ্য অনুসারে বয়ঃসন্ধির ছেলেদের থেকে মেয়েরা মানসিক অবসাদে বেশি ভোগে। John L Paul ‘ Relationship’ between college students academic grade. তথ্য অনুসারে কোন বৈষম্য লক্ষ্য করা যায় না উদ্বেগের ক্ষেত্রে বয়সের ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে।
(Kouzuma and Kenedy,2004) তথ্য অনুসারে পরিবারের বিরাট ভূমিকা থাকে। যেসব পরিবার ছন্নছাড়া, পরিবারের বন্ধন নেই সেসব পরিবারের ছেলেমেয়েরা লেখা পড়ার ব্যাপারে এত স্ট্রেস নেয় না, কারণ তাদের অভিভাবকরা তাদের প্রতি যত্নশীল নয়। যেসব পরিবারের অভিভাবকরা যত্নশীল তাদের উদ্বেগের মাত্রা অনেক বেশি। Nazing and kunan(2014) তথ্য অনুসারে ইউপি বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ছেলেমেয়েদের এবং প্রাইভেট বোর্ডের (C.B.S.C) ( I.C.S.C) ছেলেমেয়েদের ওপর পরীক্ষা করা হয়।
“Academic stress of adolescents in government and private school”অনুসারে ২১৬ টি নমুনা চয়ন করা হয়েছে একাডেমিক স্ট্রেসের উপরে, দেখা গেছে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে তাতে লিঙ্গবৈষম্য রয়েছে। মেয়েদের একাডেমিক স্ট্রেস অনেক বেশি ছেলেদের থেকে। বেসরকারি স্কুলগুলোর পড়াশোনার চাপ অনেক বেশি সরকারি স্কুলগুলিতে থেকে ফলে বেসরকারি স্কুলের বয়ঃসন্ধিকালের মেয়েরা এবং ছেলেরা অনেক বেশি একাডেমিক স্ট্রেস ভোগে।

🟦পদ্ধতিবিদ্যা(Methodology)এই পর্যায়ে গুলি কি নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো হলেও এইগুলি একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক নয়। পূর্ব পর্যায়ে উত্তর পর্যায়কে নিয়ন্ত্রণ করে। আবার উত্তর পর্যায় পূর্বপর্যায়কে নিয়ন্ত্রণ করে। পদ্ধতিবিদ্যা সম্বন্ধে বিশদ ব্যাখ্যাতে যাওয়ার আগে মূল বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। উদ্বেগ সাধারণত মানুষের শারীরিক ও মানসিক থেকে জাত। ফলে সৃষ্টি হয় ভয় আতঙ্ক। উদ্বেগ সবসময় মানুষের শারীরিক ক্ষতি করে না। অনেক সময় এই উদ্বেগের ফলে মানুষ নিজের নির্ধারিত পথের সাফল্য আনে। এই উদ্বেগের ফলে মানুষ তখন তার নির্ধারিত কর্মটি সাফল্যের সঙ্গে করে। আবার অনেক সময় উদ্বেগ মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করে। ভয় ও উদ্বেগ কিন্তু একেবারে ভিন্ন। অনেক সময় ও যে পরিস্থিতিতে মানুষ ভয় পায় সেই পরিস্থিতি থেকে মানুষ পালিয়ে যায় বা এড়িয়ে চলে। অনেক সময় যে পরিস্থিতি মানুষের মনে উদ্বেগ আসে সেই পরিস্থিতি থেকে মানুষ পালিয়ে যায় না বরং বিষয়টি নিয়ে বেশি চিন্তা ভাবনা করে। উদ্বেগ অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই ঘটে। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে উদ্বেগ খুব বড় ছাপ ফেলে। 🟦 গবেষণার অনুমান হতে পারে

১) Adolescent ছেলেদের state anxiety ও Trair anxiety মধ্যে বেশি পার্থক্য নেই। ২) Adolescent মেয়েদের state anxiety ও trait anxiety মধ্যে বেশি পার্থক্য নেই। 🟦 Interpretation (বিশদ ব্যাখ্যা) বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে আয়তনে Conpus Callosum, the strip of nurral tissue যেটা মস্তিষ্কের দুটি ভাগকে সংযুক্ত করেছে, সেটা বয়ঃসন্ধি মেয়েদের ছেলেদের থেকে২৫% বৃহৎ, মেয়েদের উদ্বেগ নানা কারণে হতে পারে। পারিবারিক উষ্ণতার অভাব, ভালোবাসা, যত্ন ,পরিচর্চার অভাব। ভারতীয় আর্থসামাজিক কাঠামোতে লিঙ্গবৈষম্য সব সময় দেখা দেয়। একটি পরিবারের ছেলে ও মেয়ের মধ্যে প্রায় পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। পরিবারের ছেলেটির প্রতি মা-বাবার প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকে তুলনায় মেয়েটির প্রতি কম। সুতরাং মেয়েরা ছোট থেকেই নিজেকে প্রমাণ করবার তাগিদে উদ্বেগের শিকার হয়, হীনমন্যতায় ভোগে। মেয়েরা নিজেদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে সাধারণত অভিভাবকদের কাছ থেকে। নিজের প্রতি বিশ্বাস হারানোর ফলে, নেতিবাচক মনোভাব আসে। অভিভাবকদের কর্তব্য মেয়েদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা যাতে তারা নিজেদের আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায়। সাধারণত ছেলেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের একটু হলেও বেশি থাকে কারণ পারিবারিক চাপ কম থাকে বলে তাদের উদ্বেগের মাত্রাটা কম হয়। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় মেয়েরা ছেলেদের থেকে অনেক ভালো। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত উদ্বেগ তাদের পড়াশোনায় মন অবনত করে। মেয়েরা সাধারণত আবেগপ্রবন হয়, তাই মানসিক নিরাপত্তা না থাকলে তারা উদ্বেগের শিকার হয়। পরীক্ষার সময় ছেলেরা অনেক আত্মবিশ্বাসী হয়ে পরীক্ষা দেয় যে তারা ভালো ফল করবে। কিন্তু মেয়েরা নিজেরা অনেক সময় অহেতুক উদ্বেগের শিকার হয়। এই উদ্বেগ সাধারণত বাড়ির পরিবেশ থেকে আসে। বিদ্যালয়ে, অর্থাৎ সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবার তাগিদ মেয়েদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। যেটা তবে জন্মের পর বোধ হওয়ার সাথে সাথে বুঝতে শুরু করে। বাড়িতে সর্বক্ষণ লিঙ্গ বৈষম্য, ছোট ছোট ঘটনা তাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকে। পরবর্তীকালে বড় হবার সাথে সাথে সেই ঘটনা ঘটনাগুলি তাদের মনে হীনমন্যতা হতাশা, নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ অনুভব করা, চাপা রাগের জন্ম নেয়। মস্তিষ্ক রসায়নে দেখা গেছে neurotransmitter serotonin একটা বিশাল ভূমিকা গ্রহণ করে উদ্বেগের ক্ষেত্রে। Witelsas(2010) পূর্ব গবেষণার ফলে দেখা গেছে মেয়েরা বেশি অনুভূতিশীল হয় ছেলেদের তুলনায় মেয়েদেরSerotonin বেশি মাত্রায় সাড়া দেয় না ছেলেদের তুলনায়। সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে যে মেয়েদের উদ্বেগের মাত্রা ছেলেদের তুলনায় বেশি কারণ মেয়েদের শরীরে কম পরিমাণে corticotropin – releasing factor (CRF) নিঃসরণ হয়। বর্তমান গবেষণার ফল স্বরূপ এটি প্রমাণিত হয়েছে যেTrait anxiety Result বয়ঃসন্ধি ছেলে ও মেয়েদের প্রায় এক। যেহেতু উভয়ের বয়স এক তাই তাদের চিন্তা ধারার মধ্যে পার্থক্য দেখা যায় না, যদিও ছেলেদের থেকে মেয়েরা অনেক বেশি পরিণত মনের দিক থেকে। কিন্তু State anxiety Result মেয়েদের বেশি, ভারতীয় সমাজে মেয়েরা সব সময় আত্মত্যাগের প্রতিমূর্তি। বয়ঃসন্ধির সময় থেকে মেয়েরা আস্তে আস্তে পরিবেশ-পরিস্থিতির দ্বারা এই শিক্ষা লাভ করে। লিঙ্গ বৈষম্যের শিশুকাল থেকেই মেয়েদের মনে বপন করে দেওয়া হয়। তাই বয়ঃসন্ধিকালের মেয়েদের মনে সেই বীজ, চারাগাছের জন্ম নেয়। অনেক সময় পারিবারিক পরিস্থিতির জন্য মেয়েরা লেখাপড়ায় নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করার জন্য উদ্বেগে ভোগে। পড়াশোনার চাপের থেকেও বেশি মেয়েদের নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করার তাগিদ থাকে। প্রতিনিয়ত মেয়েদের সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে আপোশ,করে নিতে হয় । এই শিক্ষা পরিবার বা অভিভাবকদের কাছ থেকে পায়। তাই বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েরা স্বাধীনতার অভাবের জন্য নিজেকে সম্পূর্ন প্রকাশিত করার সুযোগ পায় না বলে উদ্বেগে ভোগে এবং এই উদ্বেগের প্রভাব পড়াশোনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রকট হয়। ছেলেরা তুলনায় অনেক স্বাধীন। সামাজিক বিধিনিষেধ তাদের ওপর আরোপিত নয় বলে উদ্বেগ তাদের কম হয় এবং তার প্রভাব লেখাপড়ার ক্ষেত্রে পড়ে। সুতরাং Situational Anxiety র ক্ষেত্রে মেয়েদের উদ্বেগের মাত্রা ছেলেদের থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি।
🟦 Recomendation(সুপারিশ)
এই গবেষণার ফলে দেখা যাচ্ছে যে পড়াশোনা স্ট্রেস বয়ঃসন্ধিস্তরে ছেলেদের থেকে মেয়েদের বেশি। আর্থসামাজিক কারণের জন্য যে সমস্ত পরিবারের মাসিক আয় ৮,০০০ টাকার কম তাদের লেখাপড়ার উদ্বেগ কম। ২০,০০০ টাকার বেশি হলে লেখাপড়ার উদ্বেগ বেশি।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার_
Dr Urmi Chatterjee
( Department of Psychology, University of Calcutta)
1) Bannerjee S. Youth and exam stress social welfare (2017)
2) G. Stanly hall – ” Stroma Stress in Adolescent (2001)
3) Kouzama and Kennedy “Adolescent Child and Family” 2004
4) Kaur S.Sharma “Depression among Adolescents in relation state and course grade”
5) American journal of education 2007
6) Mukherjee ‘A parents don’t fret have Faith’
7) The Times of India 2016
8) Lisa Scheble”Child and adolescent” 2000
9) Nazin ‘ Academic Stress of Adolescent in Private and Government school’
10) www.anxietyfreechild.com

Content Protection by DMCA.com

1 COMMENT

LEAVE A REPLY