হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

191

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক : গণতন্ত্রের মানসপুত্র, উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৬৩ সালের এই দিনে লেবাননের বৈরুতে একটি হোটেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বরেণ্য এই নেতা। রাজধানীতে হাইকোর্টের পাশে তিন নেতার মাজারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সমাধি। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, সেটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ফল ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের অবিস্মরণীয় বিজয়। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তাই সুধী সমাজে তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত হন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের শান্তিপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি মুসলিম লীগ সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন। কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কও। তার প্রচেষ্টায় ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়। পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিচারপতি স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দীর কনিষ্ঠ সন্তান।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী :হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণীতে বলেন, সোহরাওয়ার্দী আমৃত্যু আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। তার জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপতি প্রয়াত এই নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, উপমহাদেশের মেহনতি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি ছিলেন একজন উদার ও প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ তত্কালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তার দক্ষ পরিচালনায় গণমানুষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আরো বিকশিত হয়। তার সুযোগ্য উত্তরসূরি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। তার অবদান জাতি সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি :আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আজ শনিবার সকাল ৯টায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হবে। বরেণ্য এই রাজনীতিবিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অসাধারণ অবদান রেখেছেন।

জেপির বিবৃতি ও কর্মসূচি :হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আজীবন যোদ্ধা। এই মহান নেতার মৃত্যুদিনে আমরা তার জীবনাদর্শ থেকে নতুন করে প্রেরণা লাভ করতে পারি। নেতৃদ্বয় তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

এদিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলের পক্ষ থেকে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় মরহুমের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ এবং মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হবে।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY