লকডাউনের মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকার

68
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘর থেকে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক: করোনাভাইরাস নিয়ে অব্যাহত উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশে সরকার লকডাউনের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে।

সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে জানানো হয়েছে, কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে সব ধরণের কার্যক্রম ও চলাচলে বিধিনিষেধ এক সপ্তাহ অর্থাৎ ২৩শে মে মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ঈদের আগের দিন গত ১৩ই মে এই সময়সীমা বাড়ানোর আভাস দেয়া হলেও রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল।

লকডাউন চলাকালে পূর্বের সব বিধিনিষেধ ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এবারে নতুন করে দুটি শর্ত যোগ করা হয়েছে।

সেগুলো হল: লকডাউনে সরকারের রাজস্ব আদায়ের সাথে সম্পৃক্ত সব দফতর ও সংস্থা জরুরি পরিসেবার আওতাভুক্ত হবে।

সেইসঙ্গে খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন করা যাবে না, শুধু বাইরে নিয়ে খাবার জন্য এবং অনলাইনে খাদ্য বিক্রয় করতে পারবে। ।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

চলতি বছর মার্চের শেষের দিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হু হু করে বাড়তে থাকায় গত ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য সরকার প্রথম বিধিনিষেধ জারি করে।

সে সময় গণপরিবহন চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় যা পরের আরও দুদিন বাড়ানো হয়েছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ই এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরেক দফা বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হয়।

পরে সেটি পরে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এবং পরে আরেক দফায় ৫ই মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

ঈদের ছুটিতে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধের সময়সীমা আবার বাড়িয়ে ১৬মে পর্যন্ত করা হয়েছিল।

এছাড়া আগের সব বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা বর্ধিত লকউনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হল:

১. সব সরকারি আধা সরকারি স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ঈদের ছুটিতে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন।

২. দোকানপাট/শপিং মল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সব দোকানপাট-শপিং মলে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দোকানপাট শপিং মল তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেওয়া হবে।

৩. এক জেলা থেকে আরেক জেলায় গণপরিবহনের চলাচল বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ দূরপাল্লার বাস, সেইসঙ্গে ট্রেন, লঞ্চের চলাচল আগের মতোই বন্ধ থাকবে।

৪. মাস্ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইলকোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে।

৬. কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন, জেলা সদর, পৌরসভা এলাকাসমূহে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি পালনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY