দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক: এ এক মহাকাব্যিক প্রস্থান। একটি কফিনের পাশে পুরো বাংলাদেশ। বিরল রাষ্ট্রীয় সম্মান। কোটি জনতার হৃদয়নিংড়ানো শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শেষ বিদায়। দেশের আপামর জনতার কান্নাভেজা শ্রদ্ধায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার শেষ বিদায়ের এই যাত্রায় শরিক হয়েছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের সরকারের প্রতিনিধি, ৩২টি দেশের কূটনীতিক।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে জানাজা শেষে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক এই আপসহীন নেত্রীকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণকালের বৃহৎ জানাজা। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষ নেত্রীর শেষ বিদায়ে অংশ নেন। শুধু মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ নয়—পার্শ্ববর্তী সড়ক, মেট্রোরেল এলাকা ও ভবনের ছাদ পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে।
জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক ও সর্বস্তরের মানুষ। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব শেখ আব্দুল মালেক।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “আমার মা যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন, ক্ষমা করে দেবেন। তাঁর জন্য দোয়া করবেন।”
‘গণতন্ত্রের মা’ খ্যাত বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে তিনি ইন্তেকাল করেন।

এক অদম্য নেত্রীকে হারিয়ে আজ শোকস্তব্ধ দেশ—ভালোবাসায় ভিজে উঠেছে ইতিহাসের এক বেদনাময় বিদায়।




















