“বেকার ”কবিতাটি লিখেছেন ব্যতিক্রম পরিক্রমায় বিরল প্রতিভাধর কবি সাফায়েত আজিজ।

1289
কবি সাফায়েত আজিজ

বেকার

       ______
       সাফায়েত আজিজ

বেকার ছেলেরা নাকি বসে বসে বাবাদের অন্ন ধ্বংস করে
আমিও তার ব্যতিক্রম নই।
আমার মাথার উপর বেকারত্বের অভিশাপ!
রঙিন স্বপ্নগুলো এখন শুধুই মরীচিকা,
চলার পথে নেমে আসছে ক্রমশ বিদঘুটে অন্ধকার।

ফাইল ভর্তি সার্টিফিকেট আর টেবিলের উপর রাখা মোটা মোটা বইয়ের স্থর,
বেকার ছেলেদের শুধুই হতাশার সাগরে ডুবিয়ে রাখে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে নিজেকে, নিজের যোগ্যতাকে প্রমাণ করতে
লক্ষ বেকার ছেলেদের লড়ে যেতে হয় বেকারত্ব ঘুচানোর যুদ্ধে।
তবুও বেকার ছেলেগুলোকে নিয়ম করে-
পরিবার, আত্মীয়-স্বজন আর প্রতিবেশীর কাছ থেকে ভর্ৎসনা শুনতে হয়।

দিনের পর দিন হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করে,
যে মানুষটাকে সুস্থ করে তুলে একটা বেকার ছেলে
সেও একদিন সেই ছেলেটার বেকারত্ব নিয়ে কটুকথা বলতে দ্বিধাবোধ করেনা।
যে মানুষগুলো বেকার ছেলেদের সাহায্য ছাড়া একদিনও চলতে পারেনা,
সেই মানুষগুলোই আবার পিছে তাদের বেকারত্ব নিয়ে পরিহাসে মেতে উঠে।
নিত্যদিনের উপহাস আর অপমান মানিয়ে নিতে শিখে যায় তারা;
সে জন্যই হয়তো বেকার ছেলেদের আত্মসম্মানবোধ থাকে নিম্ন স্থরে!

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে বছরের পর বছর কাটিয়ে দেয়া
কোন কোন বেকার ছেলের মাথার উপর থেকে পরিবার নামক
বটবৃক্ষের ছায়াটাও যখন একটা সময় এসে সরে যায়!
সে ছেলেগুলো তখন যাযাবর হয়ে বন্ধুদের মেসে
কিংবা স্টেশনের এক কোণে মাসের পর মাস রাত কাটিয়ে দেয়।
টিউশনের হাজার পাঁচেক টাকা দিয়ে
অনাহার আর অর্ধাহারে চলতে থাকে তাদের জীবন।
তবুও বেকার ছেলেদের পিঠে হাত বুলিয়ে কেউ অনুপ্রাণিত করতে আসেনা।
যেদিন অপেক্ষা আর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে
প্রিয়তমাও তার প্রায় দ্বিগুণ বয়সের একটা মানুষের হাত ধরে চলে গেছে,
কিছু সান্তনার বাণী শুনিয়ে।
বেকারত্বের অভিশাপে সেদিনও আমি অসাড় ছিলাম।

একদিন প্রতিটা ছেলেরই বেকারত্ব ঘুচে যাবে।
পরিবার আত্মীয়-স্বজন আবার তাকে সাদরে গ্রহণ করবে,
প্রিয়তমার থেকেও লক্ষী একটা বউ ঠিকই ঝুটে যাবে।
শুধু বেকারত্বের অভিশাপে, নির্মম বাস্তবতার কষাঘাতে ক্ষতচিহ্ন গুলো থেকে যাবে
আমাদের মতো প্রতিটা বেকার ছেলের হৃদয়ের গভীরে।

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY