বাংলা সাহিত্যের সারথি-শাম্মী তুলতুল এর ছোট্ট মেয়ে রিমির চোখে দেখা গ্রামবাংলার জীবনের গল্প “রিমির পিঠাপুলির দেশ”

13
শাম্মী তুলতুল এর ছোট্ট মেয়ে রিমির চোখে দেখা গ্রামবাংলার জীবনের গল্প “রিমির পিঠাপুলির দেশ”

“রিমির পিঠাপুলির দেশ’

শাম্মী তুলতুল

গ্রামে এসেছে শীতকালে রিমি স্কুল বন্ধে। ডিসেম্বর মাসে স্কুল বন্ধে সে দাদার বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরল। দাদীর কাছে সে শীতের গল্প শীতের পিঠাপুলির গল্প শুনে শুনে লোভে পরে যায়।
তাই বাবা- মাও তার আবদার না রেখে পারল না। তারা দুই দিন পর সকাল সকাল গ্রামের পথে যাত্রা করল। খুব শীত বাইরে।রিমি হাত মোজা, পা মোজা, টুপি পরল। বাবা মাও তাই করল। তারা গ্রামের বাডি ময়নাপুর পৌছে গেলো। রিমি গ্রামের দু,পাশে সব দেখে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইল। দেখে গ্রামের বুড়ো,ছেলে পুলেরা সবাই মাঠে মিষ্টি রোদ পোহাচ্ছে। রিমির দেখতে ভারী মজা লাগছিল।এদিকে খবর হয়ে গেলো খান বাডির নাতিন গ্রামে এসে গেলো।
দাদীর কানে এতক্ষণে খবর চলে এলো। গাড়ি এসে বাড়ির উঠোনে থামল।
দাদী ফুল নিয়ে নাতিনকে বরন করে নিল। দাদী রিমিকে বুকে জড়িয়ে আদর করে দিলো। বাবা মাও পায়ে ধরে সালাম করে ভেতরে প্রবেশ করল।
দাদী বলে, তোমরা ফ্রেস হও আমি নাস্তা রেডি করছি।তারা সবাই ফ্রেস হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল এই ফাঁকে দাদী পিঠা নিয়ে এলো। হরেক রকম পিঠা এই যেমন,সাচের পিঠা,ছৈ পাকন, গুড়া পিঠা, চিতই পিঠা,পাটিসাপটা পিঠা,
সুজির রস ভরা পিঠা, পুলি পিঠা, কদুর সেমাই, মধুভাত, সাইন্নে পিঠা আরও কত কি।
রিমি বলে,দাদী এত্তোগুলা তুমি বানিয়েছ?
হ্যারে আমি বানিয়েছি। ইসস রিমি খেতে খেতে বলল, কি মজার পিঠা।এতো মজার পিঠা আমি কোন দিন খাইনি।তার কথা শুনে সবাই হা হা করে হাসে।
দাদী বলল, রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পরবে।কাল তোমাকে সরাসরি খেজুরের রস কিভাবে সংগ্রহ করে তা দেখাব।
সেটা আবার কি দাদীজান?
দেখলেই বুঝতে পারবে। গ্রামে প্রচুর শীত। তারা সবাই ডবল ডবল সোয়েটার পরে রইল। এদিকে ভোরে ভোরে সবাই উঠে গেল। পাশের বাড়ির চাচাত ভাই বোনরাও সব জেগে গেলো। তারা রিমির সাথে সাক্ষাৎ করতে এলো। কাল তারা ছিল না বেড়াতে গিয়েছিল।তাই আজ দেখা করতে এলো। তাদের এত জলদি ঘুম থেকে উঠতে দেখে রিমি বলে, তোমরা এতো জলদি উঠে যাও বুঝি?
হুমম, গ্রামে সবাই জলদি ঘুম থেকে উঠে। আচ্ছা খুব ভালো।রিমি হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেস হয়ে দাদীর হাত ধরে চাচাত ভাই- বোনদের সাথে নিয়ে খেজুর গাছ দেখতে চলে গেলো।দেখে কলসী
বাঁধা খেজুর গাছের সাথে। সারি সারি অনেকগুলো খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে।সব গাছে কলসী বাঁধা।
রিমি বলে, কলসী কেন দাদীজান।
এই কলসীতে খেজুরের রস থাকে। এটা গাছের সাথে বাঁধা থাকে। কলসীতে খেজুর গাছ থেকে রস পরে।এই খেজুরের রস শুধু শীতকালে হয়।এই রস দিয়ে ভাপা পিঠা খাওয়া হয় ।আজ আমি ভাপা পিঠা বানাব দেখবে। দাদী কলসী ভরা রস বাড়িতে নিয়ে এলো। দাদী সেই রস রেখে চুলার দুয়ারে চলে গেলো। সেখানে রিমিও বসে গেলো মোড়া নিয়ে।দেখে দাদী সুন্দর সুন্দর ভাপা পিঠা বানাচ্ছে সাথে রিমির মাও হেল্প করছে। এবার সবাই মিলে খেজুরের রস দিয়ে ভাপা পিঠা খেলো। রিমি পিঠা যত খায় ততই মুগ্ধ হয়। সারাদিন দাদীর সাথে গল্প গুজব করে দাদীর সাথে গ্রামে ঘুরে বেড়ায় আর এদিক সেদিক প্রতিবেশীদের ঘরেও সন্ধ্যায় মজার মজার পিঠা খায়।
রিমি দাদীকে বলে, দাদীজান ও দাদীজান শীতকালে গ্রামে না এলে কি মজা বুঝতেই পারতাম না। কত মজার মজার মজার পিঠা বানাও তুমি সবাই। না এলে খেতেই পারতাম না।
হুমম ঠিক বলেছ। এই জন্যই আমাদের দেশ কে পিঠা-পুলির দেশ বাংলাদেশ বলে।
হুমম এটার আমারও পিঠা-পুলির দেশ বাংলাদেশ। তাই না দাদীজান?
একদম ঠিক দাদু।
তখন সবাই রিমির কথায় হো হো করে হেসে উঠল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here