খুব বেশী তো চায়নি মেয়েটি
জেরিন সুলতানা
খুব বেশী তো চায়নি মেয়েটি ,
প্রিয়তমর হাতে হাত রেখে একটা গোধূলির সাক্ষী হতে চেয়েছিলো ।
সেই গোধূলি টাকে তুলে এনে টাঙিয়ে রাখতে চেয়েছিল নিজের শোবার ঘরের দেয়ালে ,
যাতে রোজ অনায়াসেই চোখ পড়ে যায় ।
খুব বেশী তো চায়নি মেয়েটি ,
হাজারো রেস্তোরাঁ কফিশপ এড়িয়ে নদীর পাড়ে একটি টঙ দোকানে বসে
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে প্রিয় গল্পের পাতা উল্টাতে চেয়েছিলো।
বড়জোর ঝালমুড়ি আর ফুচকার সাথে একটু সময় ভাব জমাতে চেয়েছিলো দুজনে।
একটা বৃষ্টি ভেজা দুপুরে একসাথে ভিজতে চেয়েছিলো কদমের ডাল থেকে
দুটো কদমই ছিল তার আবদার এই টুকু পেলে এক আকাশ সুখ পেতো মেয়েটি।
একটা পূর্ণিমা রাতে হাতে হাত রেখে প্রিয় মানুষটির চোখের সমুদ্রে ডুবে যেতে চেয়েছিল।
কতকাল ধরে লিখে চলেছে সে কত কবিতা জমে আছে চোখের ভাষায়,
চেয়েছিলো প্রিয়জন তা পড়ে ফেলুক প্রচন্ড আগ্ৰহে আর বুকের ভেতর জড়িয়ে নিক আলগোছে।
প্রিয় জনের হাতে লেখা একটি অগোছালো চিঠি কয়েক লাইন কবিতা ,
তার অপেক্ষায় কাটানো সময়ের দীর্ঘশ্বাসের আকুলতাগুলো না হয় অক্ষর হয়ে ঝরে পড়ুক কবিতায় ,
কবিতা কে মাঝে মাঝে বানিয়ে ফেলুক গান। খুব বেশী তো চায়নি মেয়েটি,
চেয়েছিলো কয়েকটি কাঠগোলাপ কিংবা বেলী ফুলের মালা,
প্রিয় মানুষ টি খোঁপায় গুঁজে দিয়ে আদুরে গলায় বলুক “খুব বেশি ভালোবাসি তোমায় “
খুব বেশী তো চায়নি মেয়েটি, চেয়েছিলো অসাধারণ কোন আয়োজনে
নয় খুব সাধারণ ভাবেই চোখে চোখ রেখে শুনতে ঐ একটি কথাই বারবার”ভালোবাসি”
বোকা প্রেমিক বুঝতে চায়নি কখনোই কতটা বেঁচে থাকার রসদ লুকিয়ে আছে এই একটি কথায়।
খুব বেশী তো চায়নি মেয়েটি।




















