গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও আগামীর বাংলাদেশ: তারেক রহমানের ভাবনা

57
তারেক রহমানের ভাবনা

বাংলাদেশ বর্তমানে এক গভীর রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্রের মৌলিক চর্চা বাধাগ্রস্ত, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রের প্রায় সব ক্ষেত্রে—রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে।

একটি কার্যকর ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি হলো জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিমূলক শাসন। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের ভূমিকা সীমিত হয়ে গেলে, বাহ্যিকভাবে শক্ত কাঠামো দৃশ্যমান হলেও রাষ্ট্র ভিতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। ক্ষমতা নয়, জনগণের সম্মতি ও আস্থাই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি—এমন দৃষ্টিভঙ্গির কথাই তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় জনশক্তি ও সম্ভাবনার উৎস। তবে কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার সঙ্গে বাস্তবতার অসামঞ্জস্য এবং মতপ্রকাশের সংকুচিত পরিসর এই প্রজন্মের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে। তরুণদের রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তার অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে পারে।

আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ছাড়া গণতন্ত্র কখনোই টেকসই হতে পারে না। একইভাবে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন। ভিন্নমতকে রাষ্ট্রবিরোধিতা হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

তারেক রহমানের মতে, বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়—এটি জনগণের রাষ্ট্র। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় অহংকার ও প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে প্রয়োজন দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা এবং জনসেবার মানসিকতা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হতে পারে কেবল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

গণতন্ত্রের পথ কখনো সহজ নয়, কিন্তু এই পথই একমাত্র টেকসই পথ। জনগণের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ তার হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে পারে। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এটাই সময়ের দাবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here