ইন্দোনেশিয়ার স্ট্রিট ফুড: স্বাদ ও সংস্কৃতির মিলনমেলা

2
ইন্দোনেশিয়ার স্ট্রিট ফুড: স্বাদ ও সংস্কৃতির মিলনমেলা

ইন্দোনেশিয়ার স্ট্রিট ফুড দেশটির বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও খাদ্য ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। রাজধানী জাকার্তা থেকে শুরু করে সুমাত্রা, লম্বক, বান্দুং কিংবা পালেম্বাং—প্রায় সব শহরেই রাস্তার ধারে সারি সারি খাবারের দোকান চোখে পড়ে। জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডের মধ্যে নাসি গোরেং (ভাজা ভাত), মি গোরেং (ভাজা নুডলস), সাতায় (কাবাব জাতীয় খাবার), বাকসো (মাংসের বলের স্যুপ) এবং মার্তাবাক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব খাবার সাধারণত সস্তা, তাজা এবং দ্রুত পরিবেশিত হয়। স্ট্রিট ফুড শুধু ক্ষুধা নিবারণের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের সামাজিক মিলনস্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ইন্দোনেশিয়ার স্ট্রিট ফুড এক অনন্য আকর্ষণ, যা স্বল্প খরচে দেশটির আসল স্বাদ উপভোগের সুযোগ করে দেয়।

পালেম্বাং (Palembang ) অঞ্চলে স্ট্রিট ফুড হিসেবে ফল ও ফলের রস খুবই জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য। শহরের রাস্তার মোড়ে মোড়ে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, জীপসহ ভ্রাম্যমাণ ঠেলাগাড়ি ও ছোট দোকানে তাজা কাটা ফল বিক্রি করতে দেখা যায়। সাধারণত তরমুজ, পেঁপে, আনারস, আম, কমলা, ড্রাগন ফল ও সালাক (স্নেক ফ্রুট) বেশি পাওয়া যায়। অনেক বিক্রেতা ফলের ওপর সামান্য লবণ, মরিচ গুঁড়া বা আসাম (টক) সস ছিটিয়ে দেন, যা স্থানীয় স্বাদের সঙ্গে মানানসই।
ফলের রস বা Es Teh Jumbo, Es Jeruk পালেম্বাংয়ের আরেকটি জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড। কমলার জুস, অ্যাভোকাডো জুস, ম্যাংগো জুস, সাওয়ারসপ (সিরসাক) জুস এবং মিক্সড ফ্রুট জুস বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এসব জুস সাধারণত বরফ, দুধ বা মধু দিয়ে তৈরি করা হয় এবং দাম তুলনামূলক কম। গরম আবহাওয়ায় এসব ফল ও ফলের রস পথচারীদের কাছে স্বাস্থ্যকর ও সতেজতার এক সহজ সমাধান হিসেবে বিবেচিত।

নারী উদ্যোক্তা হিসেবে জেরুক জুস (কমলার রস) বিক্রি একটি বাস্তবসম্মত, স্বাস্থ্যকর ও লাভজনক উদ্যোগ। ইন্দোনেশিয়ার মতো গরম আবহাওয়ার দেশে তাজা ফলের রসের চাহিদা সারা বছরই থাকে। জেরুক সহজলভ্য ফল হওয়ায় কাঁচামালের খরচ কম এবং সংরক্ষণও তুলনামূলক সহজ।

বাংলাদেশেও একজন নারী উদ্যোক্তা ঘরোয়া পরিবেশে শরীয়াহ্ পর্দা রক্ষা করে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, তাজা ফল ব্যবহার এবং হাসিমুখে সেবা—এই তিনটি বিষয় ক্রেতা আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অল্প পুঁজি, সহজ প্রস্তুত প্রণালি ও দ্রুত বিক্রির কারণে প্রতিদিনের নগদ আয় নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ উদ্যোগ নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে তাদের আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে। স্বাস্থ্যকর পানীয় সরবরাহের মাধ্যমে সমাজের জন্যও এটি একটি ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।

প্রতিবেদক: মুহাম্মাদ শরিফুর রহমান
সমাজকর্মী ও গবেষক
ই-মেইল: sdgmodelvillage@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here