দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক: সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগে স্মরণ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল কোনো দলের নেত্রী নন, তিনি সত্যিকারের দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ ও গণতান্ত্রিক আদর্শে উজ্জ্বল।
বেলা ৩টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে এই সভা শুরু হয়। পরে শোকগাঁথা পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। শেষে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অতিথিদের সারিতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠপুত্র ও বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি এবং জুবাইদা রহমানের বড় বোন শাহীনা জামান বিন্দু।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার মৃত্যুর মধ্যদিয়ে পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে গেছেন যে, তিনি কেবলমাত্র জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না, সত্যিকার অর্থেই মানুষের এবং দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন।
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও সংগ্রামের পতাকা আজ তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। এটি যেমন গর্বের বিষয়, তেমনি এক গভীর দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জেরও বিষয়।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম তার বিরুদ্ধে হওয়া বিচার ও প্রতিশোধহীন রাজনীতির দর্শনের কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা তার শাসনামলে অর্থনীতি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং সর্বোচ্চ সম্মানসূচক রাষ্ট্রীয় উপাধি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তার চিকিৎসায় তৎকালীন সরকারের অবহেলা নিয়ে তদন্তের দাবিও ওঠে।
সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিনসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার, ক্রিকেটার তামিম ইকবালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ২৩ দেশের কূটনীতিকরা।
শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়ে খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছে, যা রাজনৈতিক ইতিহাসের বেদনাদায়ক অধ্যায়। অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার আদর্শ ভবিষ্যতেও প্রাসঙ্গিক থাকবে।
শেষে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে শোকসভা শেষ হয়।




















