ওপার বাংলার কবি সুধাংশু চক্রবর্ত্তী এর জীবন ধর্মী অনুগল্প ।। কিস্তি মাৎ ।।

0
74
ওপার বাংলার কবি সুধাংশু চক্রবর্ত্তী

।। কিস্তি মাৎ ।।

                                   সুধাংশু চক্রবর্ত্তী

কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সুদর্শন তালুকদার – তোমার কাছে আমার অশেষ ঋণ বাবা । এতো ঋণ শোধ করবো সেই উপায় আমার নেই । তবু আরও একবার এসে হাত পাতছি তোমার কাছে । আমাকে এই শেষবারের মতো উদ্ধার করে দাও তুমি ।

কানু সদ্য অফিস থেকে ঘরে ফিরেছে । মা দরজা খুলে দিয়ে গিয়ে ঢুকেছেন রান্নাঘরে । ছেলের জলখাবারের ব্যবস্থা করার আছিলায় । আসলে তিনি চাইছেন না এক্ষুনি এক্ষুনি সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন । কানুর মনে সন্দেহের দোলা । মায়ের সঙ্গে নিশ্চয়ই সামথিং টক হয়েছে সুদর্শনকা’র ! তেমনটাই যে হোপ করেছিলো ও ।

কানু গাঢ় চোখে তাকায় সুদর্শন তালুকদারের দিকে । অবাক গলায় শুধোয় – হোয়াট হ্যাপেন সুদর্শনকা ? ইউ আর লুকিং ইন ভাঙাচোরা কন্ডিশন ! কেন ? হোয়াই ?

– আর বোলো না বাবা । মেয়েকে নিয়ে বেজায় ঝামেলায় পড়েছি । সুদর্শন ভেজা গলায় জবাব দেন ।
– হোয়াট হ্যাজ ডান নমিতা ? ওকি আবার গলায় দড়ি দিয়ে হ্যাঙ্গ করার চেষ্টা করেছে ?
– না –না বাবা, তা নয় । সেসব কিছু নয় ।
– তাহলে হোয়াট ? কাউকে কিছু না বলে আবার কোথাও ভ্যানিস হয়ে গেল না কি ?
– ধুস, ওটাও না ।
– ইফ নট সো তাহলে খামোখা ক্রাই করছো কেন ?
কানুর চোখে চোখ রেখে সুদর্শন তালুকদার বলে ফেললেন নিজের মনের কথা – আমার মেয়েটাকে তুমি গ্রহণ করো বাবা । ওকে বিয়ে করে উদ্ধার করো আমাকে । এই শেষবারের মতো ঋণী হতে চাই তোমার কাছে ।
কানু জুলজুল চোখে তাকায় সুদর্শনকা’র দিকে । মনেমনে বলে, ‘এমন ঘুটি সাজিয়েছিলাম যাতে তুমি ইজিলি মাৎ হয়ে যাও সুদর্শনকা । ডু ইউ নো সুদর্শনকা ? নট ইউ, আমি নিজেই হোল লাইফ ঋণী থেকে যাবো তোমার এই অশেষ ঋণের কাছে । যেতে চায় তোমাতেই সীমাহীন ।।

LEAVE A REPLY