অন্তর্কোন্দলে পণ্ড ঢাবি ছাত্রলীগের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, ভাঙচুর ও মঞ্চে আগুন

0
39

ঢাকা  প্রতিনিধি:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনে দুইপক্ষে অন্তর্কোন্দলে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায় বৈশাখী কনসার্টের অনুমতি বাতিল করেছে প্রশাসন।

শনিবার রাত ৯টার দিকে উপাচার্যের দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অনিবার্য কারণবশত পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে অনুষ্ঠিতব্য কনসার্ট-এর অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী জানান, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো মূল প্রোগ্রাম নয়। এটি ছাত্রদের প্রোগ্রাম। আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যে কোনো সময় কনসার্টের অনুমতি বাতিল করার এখতিয়ার রয়েছে।

কোমল পানীয়ের ব্র্যান্ড মোজোর সহযোগিতায় চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখ বরণে ১৩ ও ১৪ এপ্রিল ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে এই কনসার্টের আয়োজন করে। এতে জেমস, মিলা, ওয়ারফেজ, আর্টসেল ও ফিড ব্যাকসহ বেশ কয়েকটি ব্যান্ডের সঙ্গীত পরিবেশনের কথা ছিল।

এই কনসার্টের মঞ্চ তৈরিসহ সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে শনিবার ভোররাতে মল চত্বরে ছাত্রলীগের এক দল কর্মী হামলা চালিয়ে মঞ্চ ভাংচুর এবং বিভিন্ন উপকরণে আগুন ধরিয়ে দেয়।

অন্তর্কোন্দলের কারণ সম্পকে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের এক শীর্ষ নেতা বলেন, সংগঠনের এত বড় একটি আয়োজন নিয়ে সভাপতি শোভনকে কিছু জানানো হয়নি। আয়োজনকে ঘিরে কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্য করেছেন ছাত্রলীগের অন্য তিন শীর্ষ নেতা। এই কারণে শোভনের অনুসারীরা এই অগ্নিকাণ্ড ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী এই ঘটনার জন্য সভাপতি শোভনের অনুসারীদের দায়ী করেছেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে শোভন ডাকসু ও ছাত্রলীগের আয়োজনে এত বড় প্রোগ্রামকে বানচাল করার জন্য তার (শোভন) অনুসারীদের দ্বারা এসব কাজ ঘটিয়েছেন।

আয়োজনের বিষয়ে সভাপতি শোভনকে না জানানোর অভিযোগ নিয়ে রাব্বানী বলেন, প্রোগ্রামটি মূলত ছাত্রলীগ এবং ডাকসুর আয়োজনে করা হচ্ছে। এই প্রোগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইনকে। তিনি ছাত্রলীগের সভাপতিকে কমপক্ষে ৮-১০ বার ফোন দিয়েছেন, কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে এসএমএস করে তাকে জানানো হয়।
শোভনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

LEAVE A REPLY