স্কুল জীবনের মার খাওয়ার কথা মনে পড়াতে “মার খাওয়া জীবন” কবিতাটি লিখেছেন সাহিত্যের অন্যতম সারথি সুবর্ণা ভট্টাচার্য্য

701
স্কুল জীবনের মার খাওয়ার কথা মনে পড়াতে "মার খাওয়া জীবন" কবিতাটি লিখেছেন সাহিত্যের অন্যতম সারথি সুবর্ণা ভট্টাচার্য্য

মার খাওয়া জীবন

                    সুবর্ণা ভট্টাচার্য্য

হে মার খাওয়া জীবন!

কত মার খেয়েছি,কত কাঁপা কেঁপেছি,
ভয়ে স্কুল পালিয়েছি,কান ধরেছি শতবার,
উঠ-বস করেছি হাজারবার,
তারপরও খেয়েছি মার।

উফ! আর মারবেন না স্যার,মারবেন না দিদিমণি।
পড়া শিখে আসবো বলে করেছি কত আর্তনাদ,
কত কাঁদা কেঁদেছি,
চোখের জলে জামা ভিজিয়েছি, তারপরও খেয়েছি মার।

টেবিলের নিচে মাথা ঢুকিয়ে কত ছটফট করেছি,
চিকন লম্বা বেতের ভয়ে হাত বাড়িয়েছি,
রক্ত- লাল হাতে টনটনে ব্যাথা নিয়ে বাড়ি ফিরেছি।
বন্ধুর কান ধরে কতবার উঠ-বস করেছি,
মনে মনে রেগেছি আর হেঁসেছি,
তারপরও খেয়েছি মার।

মার খাওয়ার ভয়ে স্কুল পালিয়েছি,
বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে সিঙ্গারা-সমুচা-চপ খেয়েছি,
এক টাকা দামের কমলারঙের ‘বস্তা’ আইসক্রিম ওলা থেকে আইসক্রিম কিনে খেতে খেতে…
ঠোঁট দু’টি লাল করে বাড়ি ফিরেছি।

স্কুল পালিয়ে টিফিন ছুটিতে বাড়ি ফিরিনি কেন? সেই অপরাধে মায়ের হাতে খেয়েছি মার অনেকবার।

পড়াতো শিখিনি,বাড়ির কাজও করিনি,
প্রথম বেঞ্চ থেকে পালিয়েছি,
শেষ বেঞ্চে আড়ালে মুখ লুকিয়েছি,
তারপরও খেয়েছি মার।।

হায়রে মার! পরীক্ষার পূর্ব রাতে যতো সব অশিখা পড়া বারবার নির্ঘুম গোগ্রাসে গিলেছি।

‘ধরি’ আর ‘মনে করি’ করে অঙ্ক কষেছি,
মানসিক কৃতদাসের মতো লাইনের পর লাইন মুখস্থ করে নিউরনগুলোকে খাটিয়েছি।
কিছুই বাদ রাখিনি! সব গদ গদ করে মুখস্থ শিখেছি।

দেখে না দেখে কত যে লিখেছি,
‘মহা’ আতঙ্কের! পরীক্ষাও দিয়েছি,
কী আশ্চর্য! লেটার মার্কও পেয়েছি।
নিজেকে ধন্য ভেবেছি!

আসলে কিছুই হয়নি শেখা,
–এইতো মার খাওয়া জীবন।।–
হাত পেতে, পিট পেতে গুনে গুনে মার খাওয়া,
মনে পড়ে খুব…………..
“স্মৃতিময় দূরন্ত নিষ্ঠুরতম শৈশব।”

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here