মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রত্যাহার দাবি ! কোটার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান .

0
52

কর্মসূচিতে শৈথিল্য, ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থান * সড়ক অবরোধ বেলা ১০ থেকে ১১টা পর্যন্ত * আন্দোলনে আছে প্রতিবন্ধীরাও * নৃ-গোষ্ঠীগুলোর জন্য ৫ শতাংশ কোটা চান গারো ছাত্ররা !

 ঢাকা প্রতিনিধি: মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য সব ধরনের সরকারি চাকরিতে প্রিলিমিনারি থেকে ৩০ শতাংশ কোটা বহালের আন্দোলন থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহ্বায়ক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন।

এর আগে কোটা বাতিলের পরিপত্রকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ আখ্যা দেন আন্দোলনকারীরা। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার রাত থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে আসছে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’।

কোটা বাতিলের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পোষ্যদের কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ গঠিত হয়।

অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন বলেন, মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল করতে হবে। পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রত্যাহার করতে হবে। দাবি আদায় না হলে ১ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ বলবৎ থাকবে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অবস্থান তুলে ধরা হবে।

সচিবের বিষয়ে এমন দাবির কারণ উল্লেখ করে অধ্যাপক জামাল বলেন, আমরা কেন তার প্রত্যাহার দাবি করেছি? তার অনেক কারণ রয়েছে। এ সিদ্ধান্ত (১ম ও ২য় শ্রেণীর চাকরিতে কোটা বাতিল) বাংলাদেশের সংবিধানের যে প্রস্তাবনা আছে, স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলা হয়েছে তা পরিষ্কার ভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছ। সংবিধানের ৭(১), ৭(২), ১০, ২৮, ২৯(৩), ৪০, ৪৭(১) নং অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করা হয়েছে।

একজন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সংবিধানের এতগুলো অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন হলে তার এ দেশের প্রশাসনের নেতৃত্ব দেয়ার অধিকার নেই। তাই অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। চলে যেতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী আমলা আমরা দেখতে চাই না।

কর্মসূচি শিথিলের ঘোষণা দিয়ে মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি বলবৎ থাকবে। তবে শাহবাগের কর্মসূচিতে শিথিলতা আনা হয়েছে। এখানের বড় দুটি হাসপাতালে আসা রোগীদের কথা চিন্তা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এখন থেকে বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চলবে। পাশাপাশি নিয়মিত সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকবে। এর বাইরে শাহবাগে একটি মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। সবার সঙ্গে আলোচনা করে দিনক্ষণ জানিয়ে দেয়া হবে।

এর আগে শনিবারের অবরোধ কর্মসূচি থেকে দাবি না মানা পর্যন্ত সারা দেশে নৌ, সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ‘প্রতিবাদী’।

আন্দোলনকারীদের অন্য দাবিগুলো হল- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের কটূক্তিকারীদের বিচার; মুক্তিযোদ্ধা পারিবারিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়িতে হামলার বিচার; প্রশাসনে রাজাকার ও রাজাকারদের সন্তানদের তালিকা করে বরখাস্ত করা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।

এ বিষয়ে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’-এর সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নয়ন যুগান্তরকে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমাদের আন্দোলন চলবে। এ ছাড়া কোটা বহাল রাখার দাবিতে একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে প্রতিবন্ধীদের কয়েকটি সংগঠন। অবস্থান কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে প্রতিবন্ধী কোটা বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

শাহবাগ অবরোধের জন্য স্থানটির এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে বাসগুলো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে ঘুরে যাচ্ছে। ফলে এ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও।

এদিকে রোববার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে আন্দোলনকারীদের ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তায় যান চলাচল অব্যাহত রাখেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা। পরবর্তী সময়ে বেলা ১টার দিকে ফের অবরোধ করেন তারা।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সচিব কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভা এমন সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে, যেখানে চাকরিতে কোনো কোটা থাকবে না।

পাঁচ শতাংশ আদিবাসী কোটা দাবি গারো ছাত্রদের : প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে নৃ-গোষ্ঠীগুলোর জন্য পাঁচ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগছাস)। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

এ সময় বাগছাস কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ হাছিমা, আদিবাসী কোটা সংরক্ষণ পরিষদের সমন্বয়ক উন্নয়ন সাংমা, সাঁওতাল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুমন মুরুমু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছেন দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আর নেই। আমরা তাদের অনুরোধ করব কীভাবে পাহাড়িরা জীবনযাপন করে, একটু দেখে আসেন। পাঁচ শতাংশ কোটা বাতিল করে আমাদের অগ্রসর জাতি হিসেবে পরিচিতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র একদম ভিন্ন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে প্রশ্ন, আমরা কীভাবে অগ্রসর হলাম।

বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসীদের জন্য পাঁচ শতাংশ কোটা দিতেই হবে। কোটা বহাল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

 

LEAVE A REPLY