“প্রতীকি রূহী ”অনুগল্পটি লিখেছেন কলমযোদ্ধা- আনজানা ডালিয়া

389
“প্রতীকি রূহী ”অনুগল্পটি লিখেছেন কলমযোদ্ধা- আনজানা ডালিয়া

প্রতীকি রূহী

   আনজানা ডালিয়া

রূহানী মারমা।আদি বাসি সম্প্রদায়ের। পাহাড়ে থেকে যতটুকু পেরেছে পড়াশোনা এগিয়েছে। পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতেই তার আনন্দ।ঝুমুরঝুমুর আওয়াজ নিয়ে একদিন ধাক্কা খায় প্রতীকের সাথে।চার চোখের মিলনেই মুগ্ধতায় জড়িয়ে যায় দুজনাতে। তারপর চলতে থাকে স্বপ্নবোনা।ঘরের স্বপ্ন,সংসারের স্বপ্ন,ধর্ম ত্যাগ করে সমান্তরালে জীবন চলার স্বপ্ন। প্রতীক তার পরিবারে জানালে উপজাতি বলে অবজ্ঞায় প্রথমেই না করে দেয়। হাল ছাড়েনা প্রতীক। নাছোড়বান্দা প্রতীক মায়ের হাতে পায়ে ধরে মা’কে রাজী করায়। মায়ের যে এ সমাজকে ভয়, ভিন্ন জাতির একটা মেয়েকে ঘরে বৌ করে কিভাবে,সমাজ কি বলবে ? তবু নিরুপায় হয়ে পরিবারের অন্যদের জানায়, সমাজপতিদের জানায়।সমাজে এখনও হয়তো কিছু মানবিক মানুষ আছে তাঁরা বলে যুগ পাল্টেছে, ছেলে ভালোবেসেছে কি আর করবে মেনে নাও।মায়ের সম্মতি পেয়ে স্বপ্নগুলোতে নুতন করে রঙ ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে ছুটে যায় রূহানীর কাছে। কিন্ত ভাগ্যদেবতা যে প্রতীকের খুশী দেখে আড়ালে হাসছে। প্রতীক পৌঁছে দেখে রূহানীর বাড়িতে আলো ঝলমল করছে। না রূহানী আর প্রতীকের নেই। রূহানী কিছুক্ষন আগে অন্য কারো হয়ে গেছে।রূহানীকে বিয়ের সাজে কি সুন্দর লাগছে। তাকিয়ে আছে প্রতীক। রূহানীর পাশে প্রতীক নিজেকে খোঁজে, না প্রতীক তো নেই রূহানীর পাশে এতো অন্য এক যুবক।দাড়িয়ে থাকতে থাকতে কতটা সময় পার হয়েছে জানেনা প্রতীক।সম্বিত ফিরলে খুঁজে প্রতীক কই রূহানী, কেউ তো নেই অনুষ্ঠান স্থলে। ফিরতি পথে হাটতে থাকে প্রতীক স্বপ্নগুলোকে পেছনে রেখে। ফিরে আসে মায়ের কাছে। নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে দুদিন কাটে। ডাকাডাকির পর বেরিয়ে আসে অন্য এক প্রতীক।যেন দেখতে পায়না, উদাস দুটো চোখ, শুনতে পায়না হাজার ডাকাডাকিতে। এই হাসে তো এই কান্নায় ভরে ওঠে চোখের কোণ। এক পায়ে জুতা আছে তো আরেক পায়ে নেই। হাটছে তো হাটছেই। আর বিড়বিড় করছে রূহী….. রূহী….. রূহী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here