আইটি ব্যবসার আড়ালে দুইশ’ কোটি টাকার প্রতারণা

0
40

ঢাকা প্রতিনিধি: রেক্স আইটি ইনস্টিটিউট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দুইশ’ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ পেয়েছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুস সালাম পলাশ এর মুল হোতা। পলাশ ২০১৭ সালে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এই আইটি প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। মুলত এই প্রতিষ্ঠানে আউট সোর্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এসইও, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের প্রশিক্ষণ দেয়া হত। কিন্তু এর আড়ালে চলে বিং পেইড মার্কেটিংয়ের প্রচারণা।

শিক্ষিত বেকার যুবকদের টার্গেট করে দেয়া হত লোভনীয় অনেক প্রস্তাব। বিনিয়োগে ৫০ থেতে ১০০ ভাগ রিটার্নের প্রলোভন দেখাত পলাশ। লোভনীয় এই প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী টাকা বিনিয়োগ করে পলাশের এই প্রতিষ্ঠানে। প্রথম প্রথম কিছু দিন বিনিয়োগকারীদের অল্প অল্প লাভ দিয়ে উৎসাহ দেয়া হত। পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীরা বেশি লাভের আশায় আরও মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করেন। এভাবে এক সময় পলাশের এই প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে থাকে। পরে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের টাকা লুট করে।

রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার পলাশের প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারী কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুস সালাম পলাশকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি টয়োটা সেলুন কার, পাঁচটি ল্যাপটপ, তিনটি হার্ডডিস্ক ও ছয় লাখ টাকাসহ বিদেশী মুদ্রা এবং নন ব্যাংকিং কগজপত্র জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, পলাশ ২০১০ সালে আউটসোর্সিং শুরু করে। ২০১৬ সালে আইটি ভিশন এ ট্রেইনার হিসাবে ৯ মাস কাজ করে। ২০১৭ সালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে রেক্স আইটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে। শুরুতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং করালেও পরবর্তীতে প্রতারণার ফন্দি আঁটে। তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি মডেল থানায় ডিজিটাল আইনে মামলা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোল্যা নজরুল বলেন, বিনিয়োগকারীরা পলাশের কাছে টাকা চাইলে সে নানা তালবাহানা করতো। বলত টাকা পূনরায় ইনভেস্ট করা হয়েছে। এভাবে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অন্তত দুইশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পলাশকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেয়ার চাপে দেড় মাস আগে সে গা ঢাকা দেয়। গ্রেপ্তার এড়াতে ঠিকানা গোপন ও মোবাইল ফোন নম্বর পরিবর্তন করে। তবে সে পলাতক অবস্থায়ও নুতন নুতন প্রজেক্টের কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়ার চেষ্টা করে।

মোল্যা নজরুল আরও বলেন, পলাশ প্রথমে ফ্রি মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে আগ্রহীদের নিয়োগ দিত। পরবর্তীতে তাদের পেইড মার্কেটিংয়ে ঢুকিয়ে দেয়া হত। তাদের বলা হত পেইড মার্কেটিং করার জন্য তাদের পেপাল অথবা ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়েসহ কার্ড থাকতে হবে। আর বাংলাদেশে যেহেতু পেপালের কার্যক্রম নাই সেহেতু তারা সরাসরি মার্কেটিং করতে পারবে না।

LEAVE A REPLY