ভারত থেকে সৃজনশীল কবি-নিমাই জানার ভিন্ন মাত্রার দীর্ঘ কবিতা “ঈশ্বর ও দহনশীল গণিতেরা ফ্যালোপিয়ানে থাকে”

218
নিমাই জানার ভিন্ন মাত্রার দীর্ঘ কবিতা “ঈশ্বর ও দহনশীল গণিতেরা ফ্যালোপিয়ানে থাকে”

ঈশ্বর ও দহনশীল গণিতেরা ফ্যালোপিয়ানে থাকে
নিমাই জানা

ঘুমের ঘোরে যেসব দহনশীল ছায়াপথেরা মৃত্যুর কম্পাঙ্ক , ডেফোডিল জবা দিয়ে অঙ্কন করে তাদের স্থানাঙ্ক একাকী লিখে চলে আবৃত্তময়ের আততায়ী পুরুষ
মৃত্যু দেখি তারার মতোই , সকলে তৃতীয় প্রলয়কালের শেষ চতুর্থাংশ মন্বন্তরের আগে মারা গেছে , ভৌতিক জীবাশ্মকে খায় অশরীরী জীবাশ্ম দানা
গোলাপি পোশাকের পিরামিডের তলায় অলৌকিক নারীরা কখনোই মেসোপটেমিয়ার ফসফরাসে পিচ্ছিল জনপদের ইতিহাস রাখেনা
ঈশ্বরী আকন্দ ফুলের মতো
অযুত শতাব্দীর শিরদাঁড়ায় প্রচ্ছন্ন থাকা স্লিপ ডিস্কগুলো পারদ মাখানো তরল যোণী চিহ্ন ভেঙ্গে উন্মুক্ত চাঁদকে নিয়ে মহানন্দে নাচছে যোগী , মহাজ্ঞানী শিব
তাদের পিঠে বারুদের গন্ধ মাখা সিলভার নাইট্রেট দ্রবণকে কেউ কেউ আততায়ী সোনালী তরবারি অথবা কাপালিক ভেবে শঙ্খচূড়ের ডানায় ভাসিয়ে দেয়
নোনা জলে থাকা সকল জ্যামিতিক শিরাপথে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে ওঠে
মৃতদেহের পালমোনারি সমস্যা আছে
এই স্নিগ্ধ অবস্থানে এসেই খন্ডিত ফ্যালোপিয়ানকে বেশ চকচকে দেখায় অবিবাহিত নারীটির ঠোঁটের মতো
আমার বিছানার বেড কভারের দুটি হাত হঠাৎ শাঁখ বাজাতে আরম্ভ করেছে
আমি নিজেই কতবার নিজের আবছায়া মৃতদেহকে কুপিয়ে চলি নৈঃশব্দের শব্দ দানব দিয়ে
আমার ঠোঁটে তরল বিষ বলে কিছু নেই শুধু অসময়ের বৃষ্টি
নির্জন গভীর রাতে বৃষ্টি কখনো ঘাতক হলে
আমার পাঞ্জাবী বোতাম খুলে রাখে মাথার কাছে

নিজের বুকের ওপর বসে থাকা চতুর্ভুজ ব্যাসদেব আর কেউ নয় অস্টিওপোরেসিসে আক্রান্ত একটি সাদা রঙের ভগ্নপ্রায় বাড়ি , লোরাজিপাম খেয়ে ঘুম কাতুরে গণিত কষছে নির্জন মোহনপুরে
তার তলপেটে যে সংক্রমণ থাকে তা মধ্যরাতে এসে নিজের শিরাপথকে কামড়ে ধরে
এখানে ঈশ্বরকে অনেকটা প্রেজেন্ট পারফেক্ট কন্টিনিউয়াসের মতো কালো পোশাক পরে থাকা ক্রনিক লিউকোরিয়া রোগে আক্রান্ত ধাতব নারীর কথা মনে হলো
সকলেই দুই পেগ রাত ওভার ব্রিজের তলায় রাখে
রাত মানেই আমি ঠোঁটের পাড়ে বসে থাকা ঔষধ মাখানো নিরাময়ী ইচ্ছামতী নারীকে মনে করি ,যে পরজীবী লতার মতো সোনালী রাত্রিকে লিখে রাখে কংক্রিট দিয়ে ,
বাকলের নিচে অলৌকিক পাহাড় ঘুমিয়ে থাকলেই রিগর মর্টিস ও সাইটোপ্লাজমীয় তরল মেখে নিরাময়ের পাগল পুরুষটি একাকী রাত্রির শরীর তৈরি করে
দেহের প্রচ্ছন্ন শীতকালে কালো পোশাকে দাঁড়িয়ে পড়ে নিত্যানন্দ ও সুপুরুষ
একবার জ্যোতিষী শিবচতুর্দশী ও পাগলের দ্রাঘিমা নির্ণয় করেছিল অক্ষ রেখার উপর দাঁড়িয়ে
তখন মধ্যাহ্ন

নরম অস্থিসন্ধিতে প্রাচীন ধর্মীয় বোধিবৃক্ষ রোপন করি , সঙ্গম থেকে বেরিয়ে আসে সংগ্রামহীন উদ্বায়ী পারদ , বিষ আসলে কিছু নয় একটি ত্রিভুজের সাংখ্যমান মাত্র
চারাগাছ লাগানোর পর প্রতিটি অস্থিসন্ধিতে পুরোহিত ধূপ জ্বেলে স্যালাইভা খায় চকচকে তলপেটের ওপর বিছিয়ে , তৃতীয় লিঙ্গের পাশাপাশি ঈশ্বর ও ফেলে রাখে যৌনগ্রন্থি মাখা লুব্রিকেটেড ,
দেহের যৌনগন্ধীর খেলা দিয়ে ফিরে আসছে এই অলৌকিক শহরের সব পরিযায়ী যান, এদের ঠোঁটে একটি বৃত্তাকার চক্রব্যূহ আছে সুদর্শনের ন্যায়
তাদের পোশাকের ভেতর লাল ফিতেটি প্রাচীন প্রস্তর যুগের
লাল রঙের অব্যবহৃত পোশাকটি আসলে একটি রাত্রিকালীন ফার্মেসীর একান্ত গোপন কক্ষ থেকে কেনা ওষুধের প্যাকেট , নীলাভ বৈধ গেরুয়া ফলের মতো কাঁটাযুক্ত

নিলয়ের চারটি পথে জেগে থাকা বৃত্তাকার বৃক্ষের প্রতিটি রাত্রিকালীন বিছানার নিচে সোনালী অন্তর্বাস পড়ে থাকে , বিছানায় ঈশ্বর সেজে ওঠেন প্রতিদিন , তার চারপাশে সংবেদনশীল ক্ষেত্রফলের অজস্র ঘোড়া দাঁড়িয়ে সমাধান করে ঋতুচক্রের কথা
বিষাদের দিনে নিরাসক্ত ইছামতি নারীকেই বোধিবৃক্ষের কথা বলেছিল পান্থপাদপ
তার শরীরে ঈশ্বরীর চোখ আছে
অজস্র মৌমাছির যৌনগ্রন্থি ভাঙতে ভাঙতে হায়ারোগ্লিফিক পিরামিডের কৌমুদী পাঠ করছে সরীসৃপের মতো লাইসোজোম খেয়ে আত্মহত্যার ডিভাইন কমেডি লিখেছি
ত্রিকোণমিতির বয়সন্ধিকালে
আমাদের তলপেটে দুটো সমবাহু ত্রিভুজ একটি রক্তিম জবা ও ৫১ টি ময়ূরপঙ্খী ঈশ্বরীর সন্তান আছেন
তাদের পরনের লোমশ পোশাক গুলো পাল্টে ফেলতে হবে এই ভয়ার্ত শীতকালের শেষে , উমাবনের প্রদীপে ভেসে থাকা প্রজননের লাল গোলাপটি গতরাতে ধূসর ট্যানজেন্ট খেয়েছে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here