ওপার বাংলার সাম্য দর্শনের লেখক কাকলি ভট্টাচার্য্য মৈত্র এর গল্প “হারিয়ে যাওয়া প্রেম ”

132
ওপার বাংলার সাম্য দর্শনের লেখক কাকলি ভট্টাচার্য্য মৈত্র এর গল্প “হারিয়ে যাওয়া প্রেম ”

হারিয়ে যাওয়া প্রেম

                     কাকলি ভট্টাচার্য্য মৈত্র

…. ছোট্টবেলার হারিয়ে যাওয়া প্রেম আবার যখন ফিরে এসে দাঁড়ায়, মাধবীর জীবনে, তখন সে মধ্যবয়স্কা, মধ্যবয়স্কা গৃহবধু।
…. মধ্যবয়স্কা….. তবুও….শরীর-মনে কোথাওই রূপ-যৌবনের কোনো অভাব নেই। আজও অপরূপা সেই পুরনো দিনের মতো।
….. হঠাৎ, ….. মাধবী…….এই মাধবী……..
মাধবী ফিরে দেখে সাদা-কালো চুল-দাড়িতে……
….. সেই জিন্সের সাথে লম্বা ঝুলের পাঞ্জাবি পরা কুশকে। কুশল সেন। মাধবীর অনেক ভালোবেসে দেওয়া নাম কুশ।
……এক লহমায় মাধবী পঁচিশ বছর পিছিয়ে যায়, নিজেকে শক্ত করে মাটির সঙ্গে চেপে ধ’রে দাঁড়িয়ে থাকে।
……দু-চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে……
ভালোবাসার জল, অভিমানের জল। চেষ্টা করেও চোখের জল থামাতে পারছে না। মন চাইছে সেই আগের মতো ছুট্টে গিয়ে জড়িয়ে ধ’রতে।
….. ওদিকে কুশের চোখ দুটোও বলতে চাইছে, বোঝাতে চাইছে…. মেনে নাও মাধবী…. মেনে নাও…. আবার কখনো কোন জন্মে নিশ্চয়ই আমরা একসাথে হাত ধ’রবো। এবারের মতো মেনে নাও….
….. কয়েক পা সামনে দাঁড়িয়ে, মাধবীর স্বামী ও আঠেরো বছরের মেয়ে। তারাও হয়তো বোঝার চেষ্টা করছে, হয়তো বা কিছু আঁচ করতে পেরেছে।
কুশ নিজেকে সহজ করে বলে
…..কি রে !!!! ……. কেমন আছিস মাধবী?
….. বাস্তবে ফিরে আসে মাধবী, কিন্তু আজ চোখের জল এতটাই অবাধ্যতা করছে কেন !!!!! সেদিন তো তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও বাবা মায়ের সঙ্গে সে অবাধ্যতা করে নি। আজ তবে কেন তার এমন হচ্ছে, নিজেকে কোনো রকমে সামলে নিয়ে কুশের সামনে দাঁড়ায় মাধবী। দু-চারটে কথা বলতে বলতেই, মাধবীর স্বামী এসে দাঁড়ায়, মাধবী পরিচয় করিয়ে দেয় কুশের সঙ্গে।
…… মাধবীর স্বামী অত্যন্ত ভদ্রলোক ও শিক্ষিত মানুষ। কুশের সঙ্গে তার অনেক গল্প হ’লো, ফোন নম্বরও বিনিময় হ’লো।

….. আবার এলো সেই পথ আলাদা হ’য়ে যাওয়ার লগন। মাধবীর চোখ জলে ভরে ওঠে। কুশ আলতো করে একবার মাধবীকে দেখে নিয়ে, সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার পথে পা বাড়ায়।
……… মাধবী দাঁড়িয়ে থাকে……
…… মাধবীর স্বামী পরম স্নেহে স্ত্রীর হাত ধ’রে….
একটু চাপ দিয়ে বলে……
আমি আছি তো…….
একটা জীবনে কি সবটা পাওয়া যায়?
এটাই তো জীবন………….

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY