গদ্য কবিতা , ভারত এর কবি শিবানী গুপ্ত এঁর লেখা”প্রিয় সখা শ্রাবণ” প্রতিভা সন্ধান কাব্য পরিষদে আজকের( ১৭/০৮/১৯ ইং)কবিতাগুলোর মাঝে সেরাদের সেরা নির্বাচিত হয়।

306

প্রিয় সখা শ্রাবণ!

                             শিবানী গুপ্ত

(আধুনিক বাংলা কবিতা অনেক সময় ছন্দের মিল রেখে না এগিয়ে প্রচণ্ড সম্মোহনি শক্তিতে প্রকাশের ভাব এনে দেয় মনের মাঝে প্রশান্তির ধারা। তেমনি একটি গদ্য কবিতা কবি শিবানী গুপ্ত এঁর লেখা “প্রিয় সখা শ্রাবণ” প্রতিভা সন্ধান কাব্য পরিষদে আজকের ( ১৭/০৮/১৯ ইং) কবিতাগুলোর মাঝে সেরাদের সেরা নির্বাচিত হয়।)

জানিস!তুই আসাতে দিনগুলি কেমন হাস্নুহানার গন্ধ মাতাল রোমান্টিক আমেজে কাটছিলোরে,
মাইরী বলছি।আলস‍্যের ফিতে দিয়ে বাঁধা মনের ধূলো জমা ফাইলে ,
তুই এসেই রিমিঝিমি রিমিঝিমি ধারায় সব ধুয়ে মুছে একেবারে তরতাজা করে দিলি।
দারুণ লাগছিল দেখতে ,নিজেকে যেন নতুন আঙ্গিকে দেখলাম।
চিনতেই পারিনি,হি–হি–যেন ,নবযৌবনা ষোড়শী তন্বীটি।
কি ভালো যে লাগছিলো ,কি আর বলি!জানিস! তুই আমার জীবনের সেই প্রথম কদমফুলের মতো,
যে আমাকে ভালবাসতে শেখালো,সত‍্যি বলতে, তুই আমার মেয়েবেলার প্রথম প্রেমিক সুজন রে!
তোর অনুরাগী ছোঁয়াতেই তো ভালবাসার পদ্মকলি,
শাপলা-শালুক দল মেলেছিলো আমার কুমারী মনের তটে।আমি অনুভবে পেয়েছি,
আমার দিনের নামচায়,রাতে শোবার ক্ষণে তোকে একান্ত করে,
যেমন করে অনাঘ্রাতা কিশোরীর বুকে প্রেমের মুকুল ফুটে সুবাস ছড়ায়,
ফুলের যেমন পরাগ মিলন ঘটে ,তেমনি করে তোর সাথে আমার সহবাস,
হ‍্যারে,বিশ্বাস কর,তোকে ছুঁয়ে বলছি,একরত্তি বানিয়ে বলছিনে মোটে ।
আমার দিবারাত্রির কাব‍্যকথার রসধারা যেমন তোর ধারাপাত,তেমনি শব্দে,
বর্ণে,ললিত ছন্দে,লাস‍্যে বিহ্বল ভঙ্গিমায়,কটাক্ষে তোকেই তো নিবিড় করে পেয়েছি ।
তোর প্রেমের স্রোতস্বিনী আমার কাব‍্যকে পুষ্টি দান করেছে।
তোর প্রীতির ধারায়,প্রগাঢ় ভালবাসার রমনে আমি গর্ভবতী হয়েছি।
আমি প্রসব করেছি সুঠাম,নিটোল অসংখ‍্য কবিতা ,ছড়া,গল্প!
আমি জননী হতে পেরেছি ,তোর জন‍্যে সখা আমার!
দয়িত আমার!প্রিয়তম বন্ধু সুজন সখা আমার!
আমার মনে হয় কি জানিস!আমিই বুঝি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সৌভাগ‍্যবতী প্রেমিকা!
আমিই বুঝি সার্থক কাব‍্যমাতা,!
জানি,আমার কথা শুনে অনেকেই নাক উঁচু করবে
,ভ্রু কুঁচকে তাকাবেন।তা,যা খুশি করুকগে’আমার কি!
আমার ভালবাসা কি তাতে হ্রাস পাবে?কক্ষনো না।
শোন,একটা অস্বস্তির কাঁটা আমাকে বিদ্ধ করছে রে দুদিন থেকে।
তোকে বলতে গিয়েও বলা হয়নি সুজন সখা শ্রাবণ আমার !
পরশু ,উত্তুরে হাওয়া এসে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে গেলো ,
আমার মনকে নিগড়ে বেঁধে শক্ত রাখতে–
যা সে বললো,শুনে দম আটকে যাচ্ছিলো যে!কি নিদারুণ কষ্টের সে কথা!বুক যে আমার খানখান্
হৃৎপিন্ডটা লাফিয়ে উঠেছিলো রে ভয়ে,বেদনায় ,অশুভ অশনিসংকেত টের পাচ্ছিলাম ।
তবু বলিনি তোকে। আজ যে আর কোন পথ খোলা নেই শ্রাবণ সখা!ঈশাণকোনে মেঘ জমেছে,
অনুভবে তার আভাস পাচ্ছি।আর একটু ক্ষণ!
আমি আঘাত পাবো বলে,ভেঙ্গে ,মুচড়ে ,দুমড়ে যাবে আমার মনখানা বলে—
যেকথাটা অতি সন্তর্পণে আগলে রেখেছিলি,
আমার বুকে মাথা রেখে শুয়েও বারবার চেষ্টা করেও অপত‍্য প্রেমে যা বলতে পারিসনি—
তা আমি জেনে গেছিরে—জেনে গেছি—-
তোর ডাক এসেছে চলে যাবার—-আজকেই তোর-সাথে-আমার শেষরাত ,
আমাদের শেষ সোহাগ বাসর!
নিয়তি কেন বাধ‍্যতে–বিধির নিয়ম,না যায় লঙ্ঘন!

প্রিয়তম সুজন আমার !আমার মনোরাজ‍্যের রাজ-রাজেশ্বর শ্রাবণ সখা!
আয় রে তবে ,আলিঙ্গন মাঝে,শেষ ধারাপাতে ,
রিমিঝিমি রিমিঝিমি তানে আমার কাছে —
আমায় নিবিড় বাঁধনে আপন বক্ষমাঝে রাখিস জড়ায়ে —
প্রতি শিরা–উপশিরায় বয়ে গিয়ে আমায় ফলবতী করে তোল,
তোর প্রেমের অথৈ বন‍্যায় আমায় ভাসিয়ে নে,
তোর ভালবাসার ধারাপাতের বীজ আবারো অঙ্কুরিত হোক আমার গর্ভে—
তোর অমিয় প্রবাহে সিনান করে আমি আপ্লুত হয়ে
নতুন দিনের সোনালী স্বপ্নের জন্ম দিতে মগ্ন হবো অনুপম সৃজনে——-

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY