কলমযোদ্ধা- সেলিনা হোসেন শেলী লিখেছেন ভিন্নমাত্রার কবিতা“কথোপকথন”

134
“কথোপকথন”

কথোপকথন

 সেলিনা হোসেন শেলী

এই মেয়ে–
এক আকাশ মেঘ দেবো
আরো দেবো বৃষ্টি
যাবে আমার বাড়ি!
আলো আঁধারে বাতাসের মিশেলে সুর দেবো
আরো দেবো কবিতার পঙক্তি
যাবে সুখ পাখি?

এই ছেলে–
সুন্দর মনের আকুতি গুলো আঁধার হতে
বেরিয়ে আসে আলোর রুস্মির খুঁজে।
তেমনি মনোমুগ্ধকর অনুভূতি ছোঁয়ায়
রংধনু হয় ভালোবাসার বুকে।
যাবো কৈশোর যাবো
তোমার বাড়ি।

এই মেয়ে–
পৃথিবীর সকল কিছুই কি
আর মনে নেওয়া যায়
কিছু কিছু জিনিস মানিয়ে নিতে শিখতে হয়।
তাহলে ভেঙ্গে গেলেও
শব্দটা কম হবে
কষ্টটা আড়ালে আবডালে মুসকি হাসবে।

এই ছেলে–
আমাকে তোমার কি ভাবে চাই
আদরে আলাপে খুনসুটিতে
মান অভিমান আর লুকোচুরিতে
দীর্ঘদিন বিরতীর পরে আমেসে
নাকি প্রতিদিনকার অভ্যাসে লাগবে
কিভাবে আমাকে তুমি পেতে চাও???

এই মেয়ে–
আদুরে আলাপের খুনসুটিতে
অভিমানের পেয়ালা হাতে
প্রতিদিনের অভ্যাসের মত করে
তোমাকে পেতে চাই!

এই মেয়ে–
জীবনের যে একটা সেট আপ তৈরি হয়ে গিয়েছে সেখান থেকে বের হবার ও সুযোগ নেই
এর মধ্য থেকে যতটুক পারা যায়
তা যথাসাধ্য চেষ্টা করে এগুবো
ইনশাআল্লাহ!

এই ছেলে–
গতোকাল থেকে মনের মধ্যে
একটা ঝড় তুফান চলছিল
তোমার কথায় তা খুব শান্ত শীতল
স্নায়ুযুদ্ধ থেকে আমাকে পরিত্রান
আর শান্তি দিল
অজস্র শুকরিয়া

এই ছেলে–
আসলে তোমাকে এতোটাই সম্মান
ভালোবাসা আর ভরসার চাদরে
বিশ্বাসের অভ্যাসে জড়িয়ে নিয়েছি
যে এর থেকে মৃত্যু ছাড়া মুক্তি নাই!

এই মেয়ে–
আহ! কী নির্মল!
কী মধুর!
কী এক স্বর্গীয় সুধার অম্লান মধুরতা!!
এ কেমন প্রশান্তির ছোয়া।
আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ
আলহামদুলিল্লাহ!

এই ছেলে–
তুমি সুপার হিওমেন নও মানুষ
যার মধ্যে মনুষ্যত্ব বোধ আছে
তুমি আরাধ্য ফুল যার
সুবাসিনী শুধুই আমি
তুমি আমার ছেলে বেলার
সেই স্বপ্নের কৈশোর
তাতেই আমার প্রাপ্তি!

এই মেয়ে–
এখনো কি রাত্রি নিঝুম হলে
আমার স্বপনে মহাবিশ্ব
অনাদি আভিভূত হয়ে আসো
নাকি ভোরের বাতাসে শীতল হাওয়া
হয়ে আমাকে ছুঁয়ে দেবার তরে হাসো
নাকি মাঝ দুপুরে কোকিলের কুহুতানে
আমাকে ব্যালকনিতে করো আহ্বান!

এই ছেলে–
আমার খুব তিয়াস
তোমার সুরেলা কলরব শুনবার
আর সহ্য হচ্ছে না
বুকের ছাতিম ফেঁটে চৌচির হচ্ছে
প্রখর রোদের দাবদাহে!

Content Protection by DMCA.com

LEAVE A REPLY